চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২১ এপ্রিল, ২০২২ | ১১:২৫ অপরাহ্ণ

রায়হান আজাদ 

নামাজ-রোজার মতোই ফরজ ইবাদত যাকাত

মাহে রমজান ইবাদতের মওসুম। এ মাসে ইসলামের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত সম্পাদিত হয়। ফজিলত, বরকত ও রহমতে ভরপুর এ মাসে মুমিনের হৃদয়-মন সাওয়াবের ফোয়ারায় জেগে উঠে। রোজা ও যাকাত দুটি পর্যায় ক্রমিক ফরজ।

২য় হিজরীতে রোজা ফরজ হওয়ার পর পরই শাওয়াল মাসে যাকাত ফরজ হয়। আর মাহে রমজানে এ দুটি আনজাম দিতে হয়। এতে অতিরিক্ত সাওয়াব মিলে। অবশ্য, যে কেউ যখনই তার গচ্ছিত সম্পদের বর্ষপূর্তি হবে তখনই তার যাকাত আদায় করে দিতে পারে। হযরত ইবনে আকীল ‘আল ওয়াজেহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,“যাকাত ফরজ হয়েছে রোজা ফরজ হওয়ার পর।” ইসলামে যাকাত নামক অর্থনৈতিক ইবাদতের বহু হুকম-আহকাম রয়েছে।

কুরআন ও হাদীসে যে পদ্ধতি অনুসরণ করে যাকাত আদায় করার জন্য বলা হয়েছে তা যথাযথভাবে পালন না করলে এ ফরজ আদায় হবে না। সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ আর সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য এক বছর পর্যন্ত গচ্ছিত থাকলেই ব্যক্তির যাকাতের নিসাব পূর্ণ হয়। টাকার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য অথবা এর বাজার মূল্যকে নিসাব হিসেবে গণ্য করা হয়। যাকাত প্রদানের হার হচ্ছে গচ্ছিত সম্পদের ২.৫%। আমাদের দেশে দেখা যায়, বহু লোক হিসাব-নিকাশ না করে গরীব প্রতিবেশীকে কিংবা মাদরাসা মসজিদে কিছু দান সদকা করেই যাকাত আদায়কারী সাজতে তৎপর হয়ে উঠে। এ রকম পরিস্থিতির অবতারণা কখনো শরীয়ত সম্মত নয়।

যাকাতের উদ্দেশ্য, কেবল দারিদ্র বিমোচন নয়, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন এবং সম্পদের ভারসাম্য বিধান। সম্পদে কম বেশি করে কিংবা কোন ধরনের ছল-ছাতুরীর আশ্রয় নিয়ে যদি যথাযথভাবে যাকাত আদায় করা না হয় তাহলে তার সমুদয় সম্পদ অপবিত্র হয়ে যাবে, পতিত হবে ধ্বংসের মুখে। ইসলামী অর্থনীতির মূল উৎস যাকাত।

সুতরাং যাকাত সংগ্রহকারী যেকোন নির্ভরযোগ্য ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারিভাবে পরিচালিত বাংলাদেশ যাকাত বোর্ডেও উদ্যোগে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ যাকাত ও উশর  দিতে সক্ষম ব্যক্তির কাছ থেকে সমুদয় যাকাত আদায় করে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো হলে দেশ থেকে দরিদ্রতা দূর হবে, বাড়বে কর্মসংস্থান, কেটে যাবে যাবতীয় অপ্রাপ্তি-অসন্তোষ।

পূর্বকোণ/সাফা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট