চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৩০ জুলাই, ২০১৯ | ১:২২ এএম

আরিফ ইকবাল নূর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি

ডেঙ্গু মশাবাহিত একটি সংক্রমণ রোগ। আমাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যে কোন বয়সের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হলে এ রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু মারাত্মক হেমোরেজিক হলে এবং যথাযথ চিকিৎসা না হলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
আমাদের অনৈতিক আচরণের কারণে ডেঙ্গু আজ আমাদের জীবনে এক দুর্বিষহ যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা অতি ক্ষুদ্র প্রাণী। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র প্রাণীর কাছে দেশ ও জাতি আজ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রী, সচিব, মেয়র, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা- সবাই এখন ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলছেন। সবাই বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেনতা বাড়াতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর ধরনও পাল্টে গেছে। আগে তারা এই রোগ শনাক্ত করতে যে লক্ষণগুলোকে প্রাধান্য দিতেন, সেখানে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আগে ডেঙ্গু হলে কয়েক দিন জ্বরে ভোগার পর গায়ে র‌্যাশ ওঠা, চোখ লাল হওয়া ও রক্তে প্লাটিনেটের পরিমাণ কমে যাওয়া শুরু হতো।
কিন্তু এখন প্রথম দিন থেকেই রক্তে প্লাটিনেটের পরিমাণ কমতে থাকে। আমরা এই পরিবর্তন দেখে এ কথা বলতেই পারি, মশারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে অথবা আমাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের জবাবেও বলতে হয়, আমাদের অনৈতিকতাই এর প্রধান কারণ। আমরা সবাই আজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েছি। আর সেই উদাসীনতা জোটবদ্ধ হয়ে মশার মতো ক্ষুদ্র প্রাণীকেও ১৭ কোটি মানুষের চেয়ে শক্তিশালী করে তুলেছে।
ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে, এডিস মশা অভিজাত এলাকায় বড় বড় সুন্দর সুন্দর দালান কোঠায় বাস করে। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এই মশা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দ নয়।
তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সাথে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহৃত জিনিস যেমন মুখ খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি ৫ দিনের বেশি যেন না থাকে। একুরিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।
এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীর ভালোভাবে কাপড়ে ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের চারদিকে দরজা জানালায় নেট লাগাতে হবে। দিনে ঘুমালে মশারি টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে। শিশুদের মধ্যে যারা স্কুলে যায়, তাদের হাফপ্যান্ট না পরিয়ে ফুল প্যান্ট বা পায়জামা পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে রোগীকে কোন মশা কামড়াতে না পারে। মশক নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সাথে সাথে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারী ব্যবহার করতে হবে।
যদি আমরা একটু সচেতন হই। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে এই পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এটাই হতে পারে স্থায়ী সমাধান।

The Post Viewed By: 144 People

সম্পর্কিত পোস্ট