চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৭ এপ্রিল, ২০২২ | ১০:২২ অপরাহ্ণ

রায়হান আজাদ

যেসব কারণে রোজা মাকরূহ ও ত্রুটিপূর্ণ হয়

চলছে রমজান মাস। ইবাদতের মাস। এই সময়ে মেনে চলতে হয় কিছু নিয়ম যা রমজান মাসের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যে সমস্ত কাজ করলে সিয়াম মাকরূহ হয়ে যায় তা জানা সকলেরই উচিত। 

জেনে নিন যেসব কাজে সিয়াম মাকরুহ হয়ে যায়:

১. অজুর সময় গড়গড়া করে কুলি করা, জোর দিয়ে নাকে পানি টানা। এতে গলা বা নাক দিয়ে ভিতরে পানি প্রবেশ করার সম্ভাবনা থেকে যায়।

২. বিনা প্রয়োজনে খাদ্যের স্বাদ দেখা। তবে প্রয়োজন হলে দেখতে পারে।

৩. থুথু, কফ মুখে জমিয়ে গিলে ফেলা। অল্প অল্প থুুথু গিলে ফেললে কোন অসুবিধা নেই।

৪. যৌন অনুভূতি নিয়ে স্ত্রীকে চুম্বন ও আলিঙ্গন করা, বার বার তার দিকে তাকানো, বার বার সহবাসের কল্পনা করা। কারণ এসব কার্যক্রমে বীর্যপাত ঘটা বা সহবাসে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

৫. বিনা প্রয়োজনে কোন মহিলা স্বীয় বাচ্চাকে রোজা অবস্থায় খাদ্য চিবিয়ে দেয়া। উল্লে­খ্য, প্রয়োজনবশতঃ চিবিয়ে দিলে তা মাকরূহ হবে না বরং চিবিয়ে দেয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে পেটে খাদ্যের কিছু অংশ চলে না যায়।

রোজাদারের কতিপয় ভুল-ত্রুটি আলোচিত হলো যা পরিহার করে চলা আমাদের সবারই কর্তব্য

১. ফরজ রোজার জন্য রাতে বা ফজরের পূর্বে নিয়্যত না করা, যদিও  পূর্ণ রমজান  মাসের জন্য প্রথমে একবার নিয়্যত করাই যথেষ্ট।

২. ফজরের আযানের সময় অথবা আযানের পরে পানাহার করা। ফজরের এক বা দু’ঘন্টা  পূর্বেই সাহরি খাওয়া। এ মাসে অধিকাংশ মানুষ খাদ্য ও পানীয় অপচয় এবং বাড়াবাড়ি করে থাকে, অথচ রোজাকে ক্ষুধা অনুভব করার উদ্দেশ্যে শরীয়তসম্মত করা হয়েছে, এ অপব্যয় সে মহান উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

৩. জামাআতের সাথে নামাজ আদায়ের বিষয়ে অবহেলা।

৪. রোজার দিন ও রাতে জিহবাকে মিথ্যা  বলা, প্রতারণা, গীবত করা। মূল্যবান সময়কে খেলাধুলায়, আমোদ-প্রমোদে, তামাশা ও কৌতুকে এবং ফিল্ম , চলচ্চিত্র এবং বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখে অপচয় করা।

৫. জামাআতের সাথে তারাবীহ’র নামাজ ত্যাগ করা।

৬. রোজার মাসে রাত্রি জাগরণ না করা।

৭. ফজরের নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে যাওয়া।

৮. ধন-সম্পদে কার্পণ্য করা এবং রমজান মাসে অভাবী ও দরিদ্রদের সংখ্যা অধিক থাকার পরেও তাদেরকে দান-খয়রাত করা থেকে বিরত থাকা। অনেকে মালের যাকাত আদায় করার ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে অমনোযোগী ও বেখেয়াল থাকে অথচ যাকাত হলো নামাজ ও রোজার সমমর্যাদা সম্পন্ন ফরজ। যদিও যাকাত আদায় করা শুধু রমজানের সাথেই নির্দিষ্ট নয়। রোজা থাকাবস্থায় দু’আ করা থেকে গাফিল বা অন্যমনস্ক হওয়া। বিশেষ করে, খাদ্য ও পানীয় নিয়ে ইফতার করার সময়। অথচ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘রোজাদারের ইফতারের সময়ের দু’আ ফেরত দেয়া হয় না’।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট