চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৩ জুলাই, ২০১৯ | ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ আবু নাসের

ভেজালের দৌরাত্ম্য

বিশ^ জুড়ে দেখা যাচ্ছে, মানু ষকে দুইভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া যাচ্ছে। একটি হল প্রত্যক্ষ আঘাত যা অস্ত্র ব্যবসার সুবাদে অগণিত নিরপরাধ আদম সন্তানকে মর্মান্তিকভাবে হত্যা করা আর অপরটি হচ্ছে পরোক্ষ আঘাত, যা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশিয়ে মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। আমাদের দেশে এই দুই ধরনের অপরাধ প্রতিনিয়ত হচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে, বিভিন্ন পন্থায়। কারো মৃত্যু হচ্ছে সরাসরি আঘাতে, যেমন – খুন, ধর্ষণ,খাদ্য ও ঔষধে বিষ মিশিয়ে।
প্রত্যক্ষ অপরাধের জন্য মৃত্যুদ-ের বিধান যেমন আছে, তেমনি পরোক্ষ সেই অপরাধের জন্যও বিধান আছে মৃত্যুদ-ের। কিন্তু আমরা অধিকাংশ মানুষ পরোক্ষ সেই অপরাধের শাস্তির বিষয়ে জ্ঞাত কিংবা অবগত নই। পরোক্ষ অপরাধ বলতে বোঝায় খাদ্যে ভেজাল দেয়াকে। এটা কোনক্রমেই বিষ প্রয়োগের চেয়ে কম শাস্তি যোগ্য অপরাধ নয়। অথচ আমাদের সমাজে এটা এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। আমরা কেউ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারব না, প্রতিদিন আমরা যা খাচ্ছি তা কতটা নিরাপদ। কারণ, ভেজাল খাদ্যে বাজার সয়লাব। নিজের কষ্টের টাকায় আমরা মহাআনন্দে পরিবারের জন্য বিষ কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
বাস্তবতা হল, আমাদের বিষ কিনে নিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কারণ, কোনটা যে ভেজালমুক্ত খাদ্য তা নির্ণয় করাও কঠিন হয়ে পড়ছে সবার জন্য। অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কিন্তু উদরপূর্তি তো করতে হবে। তাই জেনেও বিষ খেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। আইন থাকলেও প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কারণে নিরুপায় ক্রেতাসাধারণ জিম্মি বিষপ্রয়োগকারীদের কাছে। অথচ অবাক করার বিষয় হল, বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এর ২৫(গ)-এর ১(ঙ) ধারায় খাদ্যে এবং ঔষধে ভেজাল মেশালে বা বিক্রি করলে অপরাধী ব্যক্তির মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে অথবা ১৪ বছর কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।
আইনের খাতায় এমন শাস্তির বিধান থাকলেও আমরা কখনো শুনিনি খাদ্যে ভেজাল দেয়ার অপরাধে কারো মৃত্যুদ-ে বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে। আমরা মাঝে মাঝে যা দেখি তা হল – মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভেজালকারীকে আর্থিক দন্ড দেয়া হয়। জরিমানার অংকটা এতটাই কম হয় যে, অপরাধী তাৎক্ষণিক সেই টাকা পরিশোধ করে কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবারও পরমানন্দে বলা যায় দ্বিগুণ উৎসাহে ভেজাল খাদ্য বিক্রির মহোৎসবে মেতে ওঠে। ১৯৭৪ সালে সেই আইন হলেও গত দুই যুগ ধরে এদেশে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর মাত্রা আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। দিন দিন তা হয়ে উঠছে সবার জন্য অসহনীয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভেজাল খাদ্য তৈরিকারকদের মধ্যে চলে তুমুল প্রতিযোগিতা।
আমরা প্রতিদিন যেসব ভেজাল জিনিস খাচ্ছি তার তালিকা নেহায়েত ছোট নয়। শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ, মসলা থেকে ফলমূল ও নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব খাদ্যে যেন ভেজালই এখন অনিবার্য। ভেজালের তালিকায় বাদ নেই জীবনদায়ী ঔষধও। অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষ না জেনে এসব মরণজিনিস কিনে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিকারের আশায়। ফলে ধাবিত হচ্ছে মৃত্যুর নীল দংশনে। লঘু শাস্তির কারণে ভেজালবিরোধী অভিযানের ভয়ের কোন তোয়াক্কা না করে মহানন্দে চলে খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ। এ থেকে পরিত্রাণের কি কোন উপায় নেই?

The Post Viewed By: 119 People

সম্পর্কিত পোস্ট