চট্টগ্রাম সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২০ মে, ২০১৯ | ২:৫২ পূর্বাহ্ণ

রোজা : জানা-অজানা যাকাত আবশ্যিক হওয়ার শর্তাবলী

মানবজাতির সকলের ওপর যাকাতের আবশ্যিকতা প্রযোজ্য নয়। ফকীহগণ কুরআন-সুন্নাহের আলোকে যাকাত আবশ্যিক হওয়ার বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করেছেন। এসব শর্ত যাদের মধ্যে পাওয়া যাবে তাদের ওপর যাকাত প্রদান করা আবশ্যিক হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
মুসলমান হওয়া : কাফিরের ওপর যাকাত ফরজ নয়। কেননা যাকাত একটি ইবাদাত। যা মুসলিম ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় কাফিরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যাকাত আবশ্যিক হওয়ার জন্য মুসলিম হওয়া যেমন শর্ত, ইসলামের ওপর বহাল থাকাও তেমনি শর্ত। অতএব কোনো মুসলিম মুরতাদ হয়ে গেলে তার ওপর যাকাত আবশ্যিক থাকে না।
নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া : ইসলাম ধনসম্পদের যেকোনো পরিমাণের ওপরই যাকাত ফরজ করেনি। বরং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ হওয়া অপরিহার্য করে দিয়েছে। যাকে নেসাব বলা হয় ও এর পরিমাণ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রৌপ্য। সম্পদ বর্ধিষ্ণু হওয়া : যাকাত আবশ্যিক হওয়ার অন্যতম শর্ত যে মাল থেকে যাকাত গ্রহণ করা হবে তা বর্ধিষ্ণু হতে হবে। ফকীহগণের দৃষ্টিতে বর্ধনশীল সম্পদ দু’ধরনের, প্রকৃত ও পরিমাণগত। প্রকৃত বর্ধন জন্ম-প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে পরিমাণগত প্রবৃদ্ধি হলো, এমনভাবে সম্পদ বেড়ে যায় যে, এর গ্রহণকারী বা তার প্রতিনিধির হাতে তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। (রাদ্দুল মুহতার, খ. ২, পৃ. ৭)
সম্পদের স্তিতিকাল অন্তত এক বৎসর অতিক্রান্ত হওয়া: নেসাবোত্তর সম্পদ এক বৎসর অতিবাহিত হওয়া ব্যতিত যাকাত ফরজ হয় না। অর্থাৎ সম্পদের মালিকানা মালিকের হাতে এক বছর থাকতে হবে। কারণ বর্ধনশীল সম্পদে যাকাত আবশ্যিক হয়। সম্পদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে কিনা তা জানার জন্য ন্যূনতম একটা সময়ের প্রয়োজন যাতে পরিপূর্ণভাবে আশ্বস্ত হওয়া যায়। শরীআত সে সময় সীমাকে এক বৎসর নির্ধারণ করেছে। উল্লেখ্য যে, বৎসর দ্বারা এখানে চন্দ্র বৎসর উদ্দেশ্য।
মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া : যাকাত আবশ্যিক হওয়ার আরও একটি শর্ত হলো, ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হওয়া। যদি না হয় তবে এর ওপর যাকাত আবশ্যিক হবে না। মৌলিক প্রয়োজন বলতে ঐসব
বস্তুসামগ্রী যা ব্যতিরেকে মানুষের জীবনধারণ কষ্টসাধ্য এবং যা মানুষের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের আওতাভুক্ত। এ প্রয়োজন স্থান, কাল, পাত্র ও অবস্থাভেদে ভিন্ন রকম হতে পারে।
ঋণমুক্তি : যে সম্পদের ওপর যাকাত আবশ্যিক তা ঋণ থেকে মুক্ত হওয়া শর্ত। ঋণ যদি নেসাবের অতিরিক্ত সম্পদের সমপরিমাণ বা তারচেয়ে বেশি হয় তবে তার ওপর যাকাত আবশ্যিক হবে না। যাকাত একটি আর্থিক দায় যা সম্পদে অন্যের অধিকারও বটে। এক্ষেত্রে অভাবগ্রস্তের অধিকারের ওপর পাওনাদারের অধিকার অগ্রগণ্য। তবে যাকাত আবশ্যিক হওয়ার পর যদি ঋণ নেয়া হয় তবে তাতে যাকাত দিতে হবে। একইভাবে যে ঋণ নেসাবের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না তা যাকাতের আবশ্যিকতা রোধ করতে পারে না। (আল-কাসানী, খ. ২, পৃ. ১২; ইবনুল হুমাম, খ. ২, পৃ. ১৬১)

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 456 People

সম্পর্কিত পোস্ট