চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১

১৯ মে, ২০১৯ | ২:১৩ অপরাহ্ণ

পূর্বকোণ ডেস্ক

মহাসড়কে আধুনিক বিশ্রামাগার পাচ্ছেন ট্রাকচালকরা

ট্রাকচালকদের বরাবরই পাড়ি দিতে হয় একটানা দীর্ঘপথ। বিরতিহীন গাড়ি চালানোর কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে, এতে প্রাণও ঝরে অনেক।

এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে দীর্ঘযাত্রার ট্রাকচালকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশ্রামাগার তৈরি করবে সরকার। প্রথমে চারটি জাতীয় মহাসড়কে এই বিশ্রামাগার গড়ে তোলার পর পর্যায়ক্রমে বাকি মহাসড়কগুলোতেও এই ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এ লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ নিয়েছে ‘টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার জন্য চারটি জাতীয় মহাসড়কের পার্শ্বে পণ্যবাহী গাড়ি চালকদের জন্য পার্কিং সুবিধা সম্বলিত বিশ্রামাগার নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৩ কোটি ৫২ লাখ ৭১ হাজার টাকা। চলতি বছরের শেষ সময়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২০ সালের ৩০ জুনে।

প্রকল্পটির আওতায় যে চার মহাসড়কে বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হবে সেগুলো হচ্ছে; ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশ্রামাগারটি নির্মাণ করা হবে কুমিল্লার নিমসারে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিশ্রামাগারটি গড়ে উঠবে হবিগঞ্জের জগদীশপুরে, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বিশ্রামাগার হবে সিরাগঞ্জের পাঁচিলে এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার গড়ে তোলা হবে মাগুরার লক্ষীকান্দারে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, নিমসার ও পাঁচিলে সাড়ে ১২ একর ভূমিতে নির্মাণ করা হবে বিশ্রামাগার। জগদীশপুর ও লক্ষীকান্দারে বিশ্রামাগার গড়ে উঠবে ১৩ একর জমিতে। ১ হাজার ৮৬৩ বর্গমিটার আয়তনের দুই তলাবিশিষ্ট ভবনের আঙিনায় থাকবে ওয়ার্কশপ ও পার্কিং এরিয়া, যেখানে অনায়াসে ৫০টি ট্রাক পার্কিং করা যাবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের আওতায় সড়কবাঁধ নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ ও সবুজায়নের কাজ করা হবে। বিশ্রামাগারগুলো নির্মিত হলে ট্রাকচালকরা এখানে বিশ্রাম নিতে পারবেন। পারবেন ক্লান্তি দূর করার জন্য গোসল সারতে,এমনকি ঘুমোতেও। সুযোগ হবে চালক পরিবর্তন এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করারও। এর পাশাপাশি বিনোদনের জন্য টিভি দেখা এবং অবসাদ দূর করতে চা ও কফি পানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও থাকবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রমতে, প্রাথমিকভাবে চারটি জাতীয় মহাসড়কে ওই বিশ্রামাগারগুলো গড়ে তোলার পর ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-রাজশাহী রুটেও ট্রাকচালকদের জন্য এমন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সাংবাদিকদের জানান,

প্রথমে চারটি জাতীয় মহাসড়কে আধুনিক বিশ্রামাগর নির্মাণ করবো। পর্যায়ক্রমে বাকি জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ করবো।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 258 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট