চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৫ মে, ২০১৯ | ৯:১২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

সামুদ্রিক সম্পদ নিয়ে বরাদ্দহীন ফাঁকা পরিকল্পনা

সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় ব্লু ইকোনমি জোন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় বিশাল অঙ্কের সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ।
মোট ১৭টি মন্ত্রণালয়ের ব্লু ইকোনমি জোন নিয়ে কাজ করার কথা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল গঠন করে যত দ্রুত সম্ভব বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে। এজন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এ বিনিয়োগ সরকারের পক্ষ থেকেই প্রথম করতে হবে। ব্লু ইকোনমির সুফল পেতে বাজেটে বরাদ্দ জরুরি। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনও কাজই হচ্ছে না। কারণ, সরকার খুব আগ্রহের সঙ্গে ব্লু ইকোনমি জোন করলেও তা পরিচালনার জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ রাখেনি।
পেট্রোবাংলা ভবনে গ্রিনটেক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত ‘প্রি-বাজেট ডিসকাশন অন ব্লু ইকোনমি’ নিয়ে আলোচনা সভায় মঙ্গলবার (১৩ মে) বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল মজিদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও গবেষক ড. আতিক রহমান, গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের সিইও লুৎফুর রহমান, গাজী আনোয়ার প্রমুখ।
মো. জোবায়ের আলম বলেন, সমুদ্রবিজ্ঞান নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগ খোলা হলেও তাতে প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। টাকার অভাবে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞানের পরিবর্তে শুধু বইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। এই বিভাগে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে, তাদের সঠিকভাবে গবেষণা করার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। এতে অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রসম্পদের ব্যবহারে দেশের অর্থনীতি আরও বেশি শক্তিশালী হবে।

গাজী আনোয়ার বলেন, ব্লু ইকোনমির গুরুত্ব বোঝাতে গবেষণার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ট্রেন-আপ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সাংবাদিকরা যদি ব্লু ইকোনমি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারেন, তাহলে মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ড. আতিক রহমান বলেন, আমাদের জনসংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে। এক্ষেত্রে সামুদ্রিক সম্পদই হতে পারে আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আমাদের দেশের সমুদ্র-অর্থনৈতিক এরিয়া অনেক বেশি। কিন্তু সমুদ্রের সম্পদ আহরণ আমরা কীভাবে করবো, তার জন্য সঠিক গবেষণা হওয়া দরকার। সরকার চারটি মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করেছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। মন্ত্রণালয়গুলোর উচিত ব্লু ইকোনমি বিষয়ে এবং সমুদ্রসম্পদ নির্ণয়ে গবেষণাধর্মী প্রকল্প হাতে নেয়া। এতে করে আমরা সমুদ্র থেকে কী পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করবো, তার সঠিক পরিমাপ করা যাবে।
ড. দিলরুবা চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে এখনও দেশের মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই। ব্লু ইকোনমির রিসোর্স যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য বাজেটে বরাদ্দ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে ভালো ধারণা দিতে পাঠ্যপুস্তকে একটি অধ্যায় সংযোজন করা যেতে পারে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট