চট্টগ্রাম সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৫:২৬ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক হ ঢাকা অফিস

একদফা আন্দোলনের হুমকি

বিএনপি নেতাদের নরম সুর

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি সামনে রেখে বিএনপির নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলনের ডাক দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার জামিন না হলে ‘এক দফার’ আন্দোলন শুরু করার হুমকিও দিয়েছেন দলটির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির নেতারা। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর আগামীকাল রবিবার সাদামাটা ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’ এবং ‘বিক্ষোভ মিছিল’ কর্মসূচির মধ্যেই আপতত সীমিত থাকতে চাইছেন বলে জানা গেছে। দলের নীতি নির্ধারক নেতারা মনে করছেন, এ মুহূর্তে জোরালো আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হলে সরকারের নিপীড়নের মুখে পড়বে দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। মাত্র কয়েকদিন আগে যারা হাইকোর্ট থেকে সরকারের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জামিন নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অন্য মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করবে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা নিয়ে উপযুক্ত সময়ে শুরু করা হবে একদফার আন্দোলন।

গতকাল আন্দোলনের বিষয়ে দলটির সিনিয়র নেতাদেও সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা আন্দোলন বিষয়ে কোন্ও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। আন্দোলনের বিষয়ে নেতাদের মুখে শোনা গেছে এখন ভিন্ন সুর। তারা বলছেন, আন্দোলনের বিষয়ে তারা কোন মন্তব্য করতে পারবেন না। এ বিষয়ে শুধু মাত্র কথা বলবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা যদি দেখি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত হন নাই। তাহলে বুঝতে হবে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী, তার সরাসরি হস্তক্ষেপে বেগম জিয়া মুক্ত নাও হতে পারেন। আর সেটা হলে, আমি বলতে চাই- এদেশে শুধু এক দফার আন্দোলন হবে। তা হবে, শেখ হাসিনা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলন। তবে গতকাল আন্দোলনের বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এটা দলের বিষয়। তাই এবিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথা বলবেন।

গত ১১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে অপর এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারকে বলবো, মেডিকেল রিপোর্টের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের রিপোর্ট। এই রিপোর্টটা বুঝে নেন। এই রিপোর্ট যদি না বুঝেন তাহলে স্বৈরাচারের যে অবস্থা হয়েছে, স্বাধীনতার আন্দোলন যেভাবে হয়েছে, ভাষা আন্দোলনে যেভাবে জয়ী হয়েছে, বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আমরা জয়ী হবো ইনশাল্লাহ। গণতন্ত্র জয়ী হবে, বাংলাদেশের মানুষ মুক্ত হবে আবার। আন্দোলনের বিষয়ে গতকাল আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্দোলনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মহাসচিব বলবেন। আমি কিছু বলতে পারবো না।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল রবিবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী রোববার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করছি। আমরা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী রবিবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে। ঢাকা মহানগরে প্রতি থানায় থানায় বেলা দুইটার পর থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

The Post Viewed By: 81 People

সম্পর্কিত পোস্ট