চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০

সর্বশেষ:

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৯:২৮ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক

দিনাজপুরে ২০ জোড়া এতিম যুবক-যুবতীর যৌতুকবিহীন বিয়ে

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ২০ জোড়া দরিদ্র ও এতিম যুবক-যুবতীর যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়েতে নব দম্পতিদের নতুন পরিবার সাজাতে দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় আসবাব ও সাংসারিক জিনিসপত্রও। যৌতুকের কু-প্রভাব এবং ধর্মীয়ভাবে যৌতুক দেয়া-নেয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। আজ শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বটতলী ফয়জিয়া মদিনাতুল উলুম মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে এ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সাজিয়ে রাখা মাঠে আনন্দ ঘন মুহূর্তে মানুষ আসেন যৌতুকবিহীন বিয়ে দেখার জন্য। বিকালে ২০ জোড়া বর ও কনে সাজিয়ে আনা হয় অনুষ্ঠানস্থলে। এ সময় তাদের বিয়ে পড়ান মাওলানা আবেদ আলী। আগামীর দাম্পত্য জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি কামনায় তাদের জন্য দোয়া কামনা করা হয়। পরে নব দম্পতিদের হাতে সেলাই মেশিন, ছাগল, লেপ- তোশক, রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, হাড়ি পাতিলসহ প্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দেয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, এসব বর-কনে এতিম হতদরিদ্র। তাদের ছেলে- মেয়ের বিয়ে দেয়ার সামর্থ্য নেই বললেই চলে। তাদের জন্য কিছু করার প্রয়াসে বিয়ের এমন আয়োজন। উদ্দেশ্য কনেকে যোগ্য পাত্রের হাতে তুলে দেয়া এবং একই সঙ্গে যৌতুকের ধর্মীয় বিধি-নিষেধ মেনে যৌতুকবিহীন বিয়েতে সাধারণ মানুষের মাঝে এ বার্তা পৌঁছে দেয়া।

বিয়ের এ সুন্দর আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। এ সময় তিনি ২০ জন কনেকে শাড়ি প্রদান করেন।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ও ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের তত্ত্বাবধানে বিয়েতে হাজার হাজার উৎসুক জনতার ঢল নামে। আর এ বিয়ের সব তদারকি করেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদ দিনাজপুর প্রতিনিধি মাওলানা আইয়ুব আলী আনসারী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়ামিন হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম এ খালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুর ইসলাম নুর ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামিম আলম ফিরোজ, সাতোর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শেখ, জেলা পরিষদ সদস্য আতাউর রহমান বাবু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়শা আক্তার বৃষ্টিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।আয়োজক ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ জানান, এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যারা খরচের ভয়ে বৈবাহিক জীবন গঠন করতে পারেন না তাদের জন্যই যৌতুকবিহীন বিয়ের এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া এ ধরনের বিয়ের মাধ্যমে যৌতুকের যে কু-প্রভাব সেটি তুলে ধরা এবং যৌতুক দেয়া কিংবা নেয়া যে ধর্মীয়ভাবে নিষেধ সেটিও জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়াই এ বিয়ের লক্ষ্য।

প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল জানান, যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। আর এ ব্যাধি দূর করার জন্য সরকার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি সকলে যৌতুকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে মুক্ত হবে সমাজ। যৌতুক দেয়া কিংবা নেয়া ধর্মীয়ভাবেও নিষিদ্ধ। এ ধরনের বিয়ে সেই বার্তায় পৌঁছে দেবে প্রতিটি ঘরে ঘরে।

তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ তরুণ-তরুণীদের সামাজিক জীবনে সর্বত্র সাফল্য কামনা করে যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই অনুষ্ঠানে কুরআন শিক্ষায় ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে সনদপত্র বিতরণ করেন প্রধান অতিথি এমপি গোপাল।

পূর্বকোণ/ রাশেদ

The Post Viewed By: 242 People

সম্পর্কিত পোস্ট