চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:২৩ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ৪টিসহ ৭ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

মুজিব বর্ষের মধ্যেই দেশের প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে

মুজিব বর্ষের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিব বর্ষেও (২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ) মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ, কেউ অন্ধকারে থাকবে না। সব ঘরেই আলো জ্বলবে।
গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের চারটিসহ সাতটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ২৩ উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে-শিকলবাহা ১০৫ মে.ও. বিদ্যুৎকেন্দ্র, আনোয়ারা ৩শ’ মে.ও. বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী ১১০ মে.ও . বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটিয়া ৫৪ মে.ও. বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রংপুর ১১৩ মে.ও, তেঁতুলিয়া ৮ মে.ও. সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গাজীপুর ১শ’ মে.ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
গণভবনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. শহীদুজ্জামান সরকার উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু, কর্ণফুলী পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রব্বানী চৌধুরী, বারাকা শিকলবাহা পাওয়ার লিমিটেডের পরিচালক এম কে শাফি চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উদ্বোধনের ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন হয়েছে ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট এবং একইসঙ্গে দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধার আওতায় এসেছে।
পাশাপাশি দেশের ৪৬১টি উপজেলার মধ্যে ২৩৪টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হলো। আরো ১২৭টি উপজেলায় শীঘ্রই শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে, যেগুলো এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া, বাকী একশ’ উপজেলায় আগামী ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপনকালে বিদ্যুতায়ন করা হবে।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতার ২৩ উপজেলা হলো- চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, বগুড়ার গাবতলী, শেরপুর ও শিবগঞ্জ, ফরিদপুরের মধুখালী, নগরকান্দা ও সালথা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও নবীগঞ্জ, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, নাটোর জেলার বরাইগ্রাম, লালপুর ও সিংড়া, নেত্রকোনার বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া, কাউখালি ও ইন্দুরকানী।

উল্লেখ্য, আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের আওতাধীন কর্ণফুলী ১১০ মেগাওয়াট ও বারাকা শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে যথাক্রমে ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এবং একই বছরের ১৯ আগস্ট পিডিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় চলতি বছরের ২০ আগস্ট ও ২৪ মে। আলোচ্য দুই বিদ্যুৎ কেন্দ্র চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন কর্ণফুলী নদীর তীরে ১৪ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

 

 

পূর্বকোণ/ এস

The Post Viewed By: 101 People

সম্পর্কিত পোস্ট