চট্টগ্রাম রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ | ১১:২৭ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

৯ মাসে পায়রা বন্দর প্রকল্পে অগ্রগতি ২১ শতাংশ

পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি প্রথম ৯ মাসে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি বর্তমানে শূন্যের কোঠায়। মাত্র ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয় হওয়ায় এর পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ। সম্প্রতি স্টিয়ারিং কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করছে পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ প্রকল্পটি। এ বন্দরের লক্ষ্য আমদানি-রপ্তানিজাত পণ্য বহনকারী জাহাজ হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, বোঝাইসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবহন চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রত্যাশিত পর্যায়ে উন্নীত করা। এ জন্য ৩ হাজার ৯৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য এই প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ মিটার জেটি নির্মাণ, ৩ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড ও ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণ, ৫২ হাজার বর্গমিটার সেটাপ প্রোটেকশন নির্মাণ, ৩৩ কেভি প্রধান বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন, অপটিক্যাল ফাইবার লাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন এবং মহাসড়কে দীর্ঘ ও মাঝারি সেতু নির্মাণসহ আর আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতিসহ কিছু বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য এর স্টিয়ারিং কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৭ অক্টোবর।

সভায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতির পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ ও এর বাস্তবায়ন অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সার্বিক অগ্রগতির তুলনায় চলতি অর্থবছরের অগ্রগতি যৎসামান্য। ওই প্রতিনিধি জানান, প্রকল্পের অনুকল্পে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপিতে ২১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অর্থবছর শুরু হওয়ার পরের তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৪ লাখ ১৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় সিকিউরিটি ফেন্সিং নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, টেম্পোরারি জেটি (সার্ভিস) ও জেটি সংলগ্ন রাস্তার দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের বিভিন্ন কম্পোনেন্টের প্ল্যানিং, ডিজাইন, ড্রয়িং, প্রাক্কলন ও প্রকল্প চলাকালীন প্রকল্পের সুপারভিশনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কুনওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেইয়াং এন্ড হেরিমের ( জেভি) সঙ্গে মোট ৭৯ কোটি ৫২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ টাকার চুক্তিও সই হয়েছে। বর্তমানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ চলছে।

সভায় আরও জানানো হয়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কম্পোনেন্টের ডিজাইন, ড্রয়িং ও প্রাক্কলন নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেয়া হবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন কম্পোনেন্টের প্ল্যানিং, ডিজাইন, ড্রয়িং, প্রাক্কলন ও দরপত্র দলিল পাওয়ার পর দরপত্র আহবান করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে জেটি, টার্মিনাল, ছয় লেনের সংযোগ সড়ক ও আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতুর লেআউট পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এই লেআউট পরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্য পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে আলাদা একটি উপস্থাপনার নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে, প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপির বিস্তারিত ব্যয় বিভাজনে একটি অস্থায়ী জেটিসহ বিদ্যমান পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর রাস্তা পুনঃনির্মাণ কাজের জন্য ১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ডিপিপির ক্রয় পরিকল্পনায় মুদ্রণজনিত ভুলে এ বাবদ ৩০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে।

পূর্বকোণ-রাশেদ

The Post Viewed By: 63 People

সম্পর্কিত পোস্ট