চট্টগ্রাম রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ | ৫:৫৯ পূর্বাহ্ন

শুধু কৃষির ওপর নির্ভর না করে শিল্পায়নে গুরুত্ব দিন : প্রধানমন্ত্রী

শুধু কৃষির ওপর নির্ভরশীল না থেকে আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক শিল্পায়নের পথে যেতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ’র (বেপজা) গভর্নর বোর্ডের ৩৪তম সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর, কিন্তু এককভাবে এই কৃষিনির্ভর না থেকে কৃষির সাথে সাথে আমাদের শিল্পের উন্নয়ন করা অপরিহার্য। আর সে উন্নয়ন করতে পারলে আমাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে।” শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে খাদ্য উৎপাদন যেন কোনোভাবে হ্রাস না পায়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাও আমাদের লক্ষ্য। কারণ পৃথিবীতে খাদ্য চাহিদা কোনোদিন কমবে না, এটা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। “কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা শিল্পাঞ্চলগুলো (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) বিশেষভাবে করে দিচ্ছি, যাতে করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। কেননা পরিবেশ রক্ষার দিকেও আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।”-বিডিনিউজ
দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবন-জীবিকার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেপজা যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছে। সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসছে এবং বিনিয়োগ হচ্ছে।” তার সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা, সস্তা শ্রম ও শ্রমবান্ধব তরুণ জনগোষ্ঠী এবং দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবেও আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। “দেশে বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাংলাদেশ এখন সমগ্র বিশ্বের কাছে বিনিয়োগের সব থেকে আকর্ষণীয় স্থান। যে কারণে বেপজার পাশাপাশি সরকার সারাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে।”

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশই কর্মক্ষম যুবক শ্রেণি, যাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি। আর সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে একেবারে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমরা কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি এবং বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে তরুণদেরকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময়োপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশের কর্মক্ষম এই নবীন জনগোষ্ঠীর কারণেও বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এই দিকটায় আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার হয়ে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হওয়ায় এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে বলেই বিনিয়োগের ক্ষেত্রটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দেশে-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য তার সরকার নানারকম সুযোগ-সুবিধাও দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেপজায় যারা বিনিয়োগ করে তারা বিশেষ সুবিধা যেমন পেয়ে থাকে তেমনি এখানকার শ্রমিকরাও ভালো বেতন পায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বহু শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলব এবং বাংলাদেশ দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত হবে, যেটা ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য।”

শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বাংলাদেশের অবস্থানটা আন্তর্জাতিক বিশ্বে আজকে এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতিমালার ভিত্তিতে চলায় আজকে সকলের সঙ্গেই বাংলাদেশের একটা সুসম্পর্ক রয়েছে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বস্ত্র এবং পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বিদ্যুৎ,জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান সভায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

The Post Viewed By: 39 People

সম্পর্কিত পোস্ট