চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৯ নভেম্বর, ২০১৯ | ৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক হ ঢাকা অফিস

মধ্যরাতে আঘাত হানছে ‘বুলবুল’

হ চট্টগ্রাম বন্দরে ৬, মোংলা ও পায়রা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত হ ৫-৭ ফুট জলোচ্ছ্বাস হতে পারে হ সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ হ ২২টি মন্ত্রলণালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আজ শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। এ কারণে ৫ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এ অবস্থায় উপকূলবর্তী এলাকার জনগণকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে ঘূর্ণিঝড়টা কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ জন্য গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোংলা ও পায়রা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত, চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজারে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসায় সারা দেশে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার শুক্রবার বলেন, সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. মো. এনামুর রহমান। এরইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২২টি মন্ত্রলণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মনিটরিং সেলের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।-
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। শুক্রবার রাত ৯টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৫৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

‘বুলবুল’-এর সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি আরেকটু ডানদিকে ঘুরে খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের ওপরে আঘাত হানতে পারে। শনিবার মধ্যরাতের দিকে এটি আঘাত হানবে।’
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাসমূহকে অতি সত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সরকারের সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ খুলনা ও বরিশালের দিকে ধেয়ে আসছে। খুলনা ও বরিশাল এলাকা থেকে এখন ৬শ’ ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের কোনো এক সময় আঘাত হানতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা ও পিরোজপুরের কিছু কিছু এলাকায় আঘাত হানতে পারে। তবে তা মোকাবিলায় সরকারের সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রস্তুতির কথা জানান।
বৈঠকে উপকূলবর্তী সব জেলা ও উপজেলায় প্রায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলের ১৩টি জেলার মধ্যে পাঁচটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ঝড়ের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। উপকূলবর্তী খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুরসহ ১৩টি জেলায় দুই হাজার করে মোট ২৬ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক জেলায় নগদ পাঁচ লাখ টাকা করে আগাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরসহ উপকূলীয় জেলাগুলোর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন সব উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার উপকূলের কাছাকাছি ঘূর্ণিঝড়টি অবস্থান করতে পারে। পরে বঙ্গোপসাগরের উত্তর দিক দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর গতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১০ ও ১১ নভেম্বর সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, নড়াইল ঝিনাইদহ, মাগুরা, গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুরে ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) থেকে ১৬ নভেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদ সম্মেলনের আগে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামালসহ আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আজ শনিবার বেলা ১১টায় সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন আহবান করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সরকার সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ইেিতামধ্যেই পর্যাপ্ত ত্রাণ-সামগ্রী খুলনা ও বরিশাল বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশংকা রয়েছে। আমরা আশা করছি আগামীকাল (শনিবার) সকাল ১১টা থেকে দুই বিভাগের সাত জেলার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হবে।

The Post Viewed By: 128 People

সম্পর্কিত পোস্ট