চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:১৪ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক

চিত্রপট অঙ্কনে জাবিতে প্রতিবাদ অব্যাহত

সন্ধ্যায় দুর্নীতির শ্বেতপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে আন্দোলনকারীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে শুক্রবারও আন্দোলন চলমান রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সকালে পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা। চলছে প্রতিবাদী চিত্রপট অঙ্কন। চিত্রপট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার কথা রয়েছে আন্দোলনকারীদের।

এদিকে গতকাল দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য বিরোধী যে আন্দোলন চলছে, সেই অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে  বলে হুশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ হুশিয়ারির পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুর্নীতির তদন্তের স্বার্থে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের হাতে আসা তথ্য-উপাত্তগুলো আজ (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। 

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন দ্য আজ দুপুর দেড়টায় জানান “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির তদন্তের স্বার্থে আমাদের হাতে আসা তথ্য উপাত্তগুলো আজ সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিবো।”

“প্রচুর তথ্য পাচ্ছি। সেগুলো একত্র করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে,” যোগ করেন অধ্যাপক রাইন।

উল্লেখ্য, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য ড. অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলনে উত্তাল রয়েছে জাবি ক্যাম্পাস। আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে উপাচার্য ফারজানা ইসলামকে তার বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবন অবরোধ এবং সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেন তারা। বাসভবনে অবরুদ্ধ ভিসি নিজ কার্যালয়েও যেতে পারছিলেন না। এসময় ভিসিপন্থী শিক্ষকরা আন্দোলন দমাতে এলে তাদের সাথে আন্দোলনকারীদের সাথে বাগ-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর করা সংবাদ সম্মেলনে তার বাসভবনের সামনে থেকে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়াকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন উপাচার্য ফারজানা। একই সঙ্গে এজন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। 

মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পরে ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নিদের্শ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে রাতেও হলে অবস্থান করেন এবং আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। পরে বুধবার সকাল থেকে ফের আন্দোলন শুরু করেন তারা।

এরপর বুধবার দুপুরে আবাসিক হলের সব শিক্ষার্থীকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নির্দেশনার পর হল ছেড়ে যান সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শিক্ষার্থীরা হলত্যাগের পরও বুধবার উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। পরে রাত ১০টার দিকে বৃহস্পতিবার আবারও অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিলের পর সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে করা হয় প্রতিবাদী কনসার্ট। 

পূর্বকোণ/পিআর

The Post Viewed By: 62 People

সম্পর্কিত পোস্ট