চট্টগ্রাম বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খাদ্য বিভাগের কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে চাকরি থাকবে না

খাদ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

খাদ্য বিভাগের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়ালে চাকরি থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আসন্ন আমন ধান চাল সংগ্রহে কোন ধরনের অনিয়ম ও কৃষক হয়রানি মোটেও সহ্য করা হবে না। যার বিরুদ্ধেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে বিধি মোতাবেকই তার উপযুক্ত শাস্তি আমরা দেব। কোন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি করতে পারবে না। প্রমাণ হলেই তারা চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়ে যাবে । গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমান ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের সম্পৃক্ত চট্টগ্রাম বিভাগের অংশীজনের সাথে মতবিনিয়কালে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষক বাঁচাতে কেবল ধান চাল সংগ্রহ নয়, কৃষির সবক্ষেত্রেই নজর দিতে হবে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ধান চাল সংগ্রহে কৃষকরা যেন ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের তালিকা হালনাগাদ করার কাজ চলছে । মন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় এবার ধান সংগ্রহ কার্যক্রম স্বচ্ছতার মাধ্যমে হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই রকম স্বচ্ছভাবে কোন সময়ে আর সংগ্রহ হয়নি। কৃষকদের ধানের নায্যমূল্য দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় যে নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়েছে তারা সে নির্দেশনা মেনে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশে নতুন করে ২০০ প্যাডি সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক কৃষকরা তো ধান কাটার

পরই বিক্রি করে। প্রকল্প দাখিল করেছি। যেখানে ১০ মেট্রিক টন ধান সংরক্ষণ করা যাবে। বর্তমানে যেগুলো চলমান যেসব কর্মসূচি রয়েছে তা ব্যবহার করা যাবে। আর প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ওইটা যদি করি তাহলে সরাসরি ধান কিনতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, যারা মানুষ থেকে ধার-দেনা করে চাষ করে, তারা সে ধান কাটার পর টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে। যার কারণে ধান কাটার সাথে সাথেই যে মূল্য বাজারে পান তাতেই ধান বিক্রি করে দেন। এতে করে তারা লোকসানের মুখে পড়ে। আমরা কৃষকের জন্য অনেক কথা বলি, কিন্তু সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারি। আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে কৃষকদের তালিকা করা হবে। সেখানে কেউ কৃষক না হয়েও যদি তালিকাভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে তাদের বাদ করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেন তিনি।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হোসেনে আরা, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শঙ্কর রঞ্জন সাহা, খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল আজিজ। সভায় বিভাগের ১১টি জেলার খাদ্য ও কৃষি কর্মকর্তা, ডিলার এবং কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

The Post Viewed By: 91 People

সম্পর্কিত পোস্ট