চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:৫৫ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহাসড়কে টোল আদায় শুরু হবে চার লেন দিয়ে

মহাসড়ক থেকে টোল আদায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চার লেন ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পর্যায়ক্রমে সব জাতীয় মহাসড়ককে টোলের আওতায় আনা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে অধিদপ্তর। তবে কবে নাগাদ টোল আদায় শুরু হবে, তার দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।

গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় জাতীয় মহাসড়ক থেকে টোল আদায়ের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম কাজ শুরু করেছে। টোল আদায়ের ক্ষেত্রে চার লেনের মহাসড়কগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে এ কমিটি। সূত্র : বণিকবার্তা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা হচ্ছে ঢালাওভাবে সব সড়ক নয়, টোল আদায় হবে কেবল চার লেন মহাসড়কে। প্রথমে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে টোল আদায় করা হবে। ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ অনেকগুলো মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতের কাজ চলমান। এসব মহাসড়ক থেকেও টোল আদায় করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা-মাওয়ার মধ্যে যে এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণাধীন আছে, সেটি থেকেও টোল আদায়ের পরিকল্পনা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জাতীয় মহাসড়ক টোলের আওতায় আসবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়ক থেকে টোল আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করছি।

বর্তমানে দেশে যে টোল নীতিমালা কার্যকর রয়েছে তা ২০১৪ সালে প্রণীত হয়। বিদ্যমান টোল নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় মহাসড়কের ভিত্তি টোল নির্ধারণ করা হয়েছে কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৫০ পয়সা। এ হিসাবে ট্রেইলারে টোল পড়বে কিলোমিটারপ্রতি ৩ টাকা ৭৫ পয়সা। ভারী ট্রাকে কিলোমিটারপ্রতি টোল আদায় হবে ৩ টাকা। মাঝারি ও ছোট ট্রাকের কিলোমিটারপ্রতি টোলহার যথাক্রমে ১ টাকা ৫০ পয়সা ও ১ টাকা ১২ পয়সা। বাস ও মিনিবাসের কিলোমিটারপ্রতি টোলহার যথাক্রমে ১ টাকা ৩৫ পয়সা ও ৯০ পয়সা। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ট্রেইলারে কিলোমিটারপ্রতি ৫ টাকা, ভারী ট্রাকে ৪ টাকা, মাঝারি ও ছোট ট্রাকে ২ টাকা ও ১ টাকা ৫০ পয়সা। বাস ও মিনিবাসের টোলহার যথাক্রমে কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা ও ১ টাকা ২০ পয়সা।

বর্তমানে দেশের তিনটি সড়ক-মহাসড়কের কিছু অংশে টোল আদায় করছে সওজ অধিদপ্তর। ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক, ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চট্টগ্রাম বন্দরের সংযোগ সড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর-শেরপুর অংশে টোল চালু রয়েছে। এই তিনটি সড়কে টোল আদায় হচ্ছে ২০১৪ সালের টোল নীতিমালা অনুযায়ী।

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১৯০ কিলোমিটার। জাতীয় মহাসড়ক ক্যাটাগরিতে টোল আদায় করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক ব্যবহারের জন্য একটি ট্রেইলারকে টোল দিতে হবে ৭১২ টাকা। ভারী ট্রাককে গুনতে হবে ৫৭০ টাকা। বড় বাস থেকে আদায় হবে ৩৪২ টাকা। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহারকারী যানবাহনগুলোকে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতুতে টোল দিতে হচ্ছে।

সওজ অধিদপ্তরের আওতায় দেশে জাতীয় মহাসড়ক আছে ৩ হাজার ৯০০ কিলোমিটার। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতের কাজ শেষ হয়েছে ২০১৭ সালে। ঢাকা-টাঙ্গাইল, টাঙ্গাইল-রংপুর, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়াসহ আরো কয়েকটি মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে এক্সপ্রেসওয়ে। প্রাথমিকভাবে টোল আদায়ের জন্য এসব সড়ক অবকাঠামোকে প্রাধান্য দেয়ার কথা বলছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব (টোল অ্যান্ড এক্সেল) মোহাম্মদ শফিকুল করিম এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাটি কার্যকরের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি কমিটি বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

কী হারে টোল আদায় করা হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের যে টোল নীতিমালা আছে, সেখানে টোলের হার দেয়া আছে। সেই নীতিমালায় উল্লিখিত হারেই মহাসড়কগুলো থেকে টোল আদায় হবে। টোলহার বদলাতে হলে নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মহাসড়ক থেকে টোল আদায় করতে হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। টোলবুথ নির্মাণ করতে হবে। জনবলও দরকার। সবকিছু একটা ‘সিস্টেমের’ মধ্যে আনতে হবে। এজন্য সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি দল কাজ করছে।

টোলযোগ্য মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহন থেকে টোল আদায় হবে। প্রত্যক্ষভাবে টোল প্রদান করবে যানবাহনের মালিক-পরিচালনাকারী। তবে পরিবহন মালিকরা টোলের টাকা নিজেদের পকেট থেকে না দিয়ে যাত্রী ও ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, টোল আরোপের কারণে যানবহনের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যাবে। এই বাড়তি খরচ যাত্রী-ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করে নেবেন পরিবহন মালিকরা।

 

 

পূর্বকোণ/রাশেদ

The Post Viewed By: 230 People

সম্পর্কিত পোস্ট