চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:২৩ am

নিজস্ব প্রতিবেদক হ ঢাকা অফিস

গ্রামীণফোন ও রবিতে পাওনা আদায়ে ‘প্রশাসক’ নিয়োগ

পাওনা পরিশোধে বার বার নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও অর্থ পরিশোধ না করার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) কর্তৃক বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এই অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি এবং রবির কাছে বিটিআরসির পাওনার পরিমাণ ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বিটিআরসি অপারেটর

দুটিতে প্রশাসক বসানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। আমরা অনুমোদন দিয়েছি। এখন বিটিআরসি ঠিক করবে প্রশাসক বা রিসিভার হিসেবে কাকে নিয়োগ দেবে, কীভাবে নিয়োগ দেবে, প্রশাসকের কোনও সহযোগী থাকবে কিনা ইত্যাদি। তিনি জানান, প্রশাসকের দায়িত্ব হবে মূলত শুধু টাকা তোলা। বিটিআরসি কমিশন বৈঠকের সিদ্ধান্ত শেষে গত মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) প্রশাসক নিয়োগের চিঠি টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয়। জানা গেছে, পাওনাটা ১৯৯৭ সাল হতে। এ সময়ের মধ্যে নানাভাবে মামলা-মোকদ্দমা, টালবাহানা, দেন-দিচ্ছি-দেবো এইসব করতে করতে বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত এসেছে। গত জানুয়ারি হতে অপারেটর দুটির সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। সেখানে কেউ কোনভাবে জড়িত হওয়ার আগেই আমরা বলেছি একটা টোকেন এমাউন্ট দিয়ে আপনারা আলোচনায় বসেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোম্পানি দু’টি এই প্রস্তাবে কোনও ধরনের সাড়া দেয় নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এমনকি সর্বশেষ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের উদ্যোগে বৈঠকেও চূড়ান্ত করা হয়েছিল, টোকেন মানি হিসেবে গ্রামীণফোন দেবে ২০০ কোটি আর রবি দেবে ৫০ কোটি। এটি যদি দেয়া হতো তাহলে দুই পক্ষে অডিটর ডেকে নেগোসিয়েশনে যাওয়া যেত। এটিতে তারা রাজি হয় নি।বিটিআরসির পাওনা দাবি যত
বছরের পর বছর ধরে অডিট করা নিয়ে নানা জটিলতা, আইন-আদালতের পর শেষ পর্যন্ত তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে করানো অডিটে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির।

বিটিআরসির ব্যবস্থামূলক যেসব পদক্ষেপ
২০১৯ সালের এপ্রিলের শুরুতে পাওনা দাবি পরিশোধে অপারেটর দুটিকে চিঠি দেয় বিটিআরসি। এরপর নানা দেন-দরবার,

অপারেটর দুটির ব্যাখা, আলোচনার পর কোনও পথ না বের হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
৪ জুলাই গ্রামীণফোনের জন্য বরাদ্দ ব্যান্ডইউথ ক্যাপাসিটি ৩০ শতাংশ এবং রবির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ব্লক করে দেয় বিটিআরসি। ততদিনে অডিট চূড়ান্তের এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তবে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার সীমিত করায় সেটি গ্রাহকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। ২২ জুলাই অপারেটর দুটিকে দেয়া হয় এই নির্দেশনা। আর এনওসি বন্ধের ফলে অপারেটর দুটির সব প্যাকেজ অনুমোদন বন্ধ হয়ে যায়। নতুন যন্ত্রপাতি আমদানি বন্ধ, নেটওয়ার্ক বিস্তারের অনুমোদনও বন্ধ হয়ে যায় এমনকি ব্যাংক লোন বা কোনও ক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করাও। এতেও দাবি আদায় না করতে পেরে ৫ সেপ্টেম্বর লাইসেন্স (টুজি-থ্রিজি) কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে ১ মাসের সময় দিয়ে দুই অপারেটরকে শোকজ নোটিশ দেয় বিটিআরসি।

হঠাৎ দৃশ্যপটে অর্থমন্ত্রী
অপারেটর দুটির কিছু পদক্ষেপ ও শোকজ নোটিশ পাওয়ার পর জটিলতা আরও বাড়লে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের দিন অর্থমন্ত্রী বিষয়টি সুরাহা করতে উদ্যোগী হন। বিটিআরসিতে হতে যাওয়া ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। ওইদিন বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান তিন সপ্তাহের মধ্যে এই পাওনা জটিলতার একটি সুরাহা হয়ে যাবে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, দুই পক্ষকেই ছাড় দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আর কোনও বিরোধ নয়। মামলা প্রত্যাহার করবে অপারেটর দুটি। তারা সবকিছু ভুলে যাবেন এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন।

The Post Viewed By: 59 People

সম্পর্কিত পোস্ট