চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১০ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:৫৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

হাউমাউ করে কেঁদে চিৎকারে বুক ভাসালেন আবরারের দাদা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আবরার ফাহাদের হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ করছেন। আজও বুয়েটে চতুর্থদিনের মতো শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে।

আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়াতে। আবরারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না দাদা আবদুল গফুর বিশ্বাস। নিজের পরিবারে আবরার ছিলেন সবার চোখের মনি।  

আবরারের কথা উঠলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। বুক চাপড়াতে চাপড়াতে বলেন, ”আল্লারে… আমার নাতিটা… কনে গেল রে… ।” চোখের পানি মুছে আবদুল গফুর বিশ্বাস বলেন, ”ও কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। পড়াশুনাতেই ছিল তার সব মনোযোগ। পঞ্চম, অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে, মাধ্যমিকে বৃত্তি পেয়েছে। পরে নটরডেমে ভর্তি হয়েছে, ডাক্তারি পরীক্ষায় পাশ করেছে, কিন্তু পরে বুয়েটে ভর্তি হয়েছে।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে গলা ধরে আসে আবরারের দাদার। তার বেশিরভাগ কথাই বোঝা যায় না।  যতদিন বেঁচে থাকবেন নাতি হারানোর বেদনা, এই ক্ষত কেউ মুছে ফেলতে পারবে তার ভারাক্রান্ত হৃদয় থেকে।

প্রথমে আবদুল গফুর বিশ্বাসকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। পরে জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আবদুল গফুর বিশ্বাস স্বপ্ন দেখতেন তার নাতি অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু জীবনসায়াহ্নে এসে এমন গভীর বেদনা তাকে বয়ে বেড়াতে হবে কে জানতো!

কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছিলেন আবরার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন। কিন্তু নিজের ইচ্ছাতেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। 

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

পূর্বকোণ/পিআর

The Post Viewed By: 266 People

সম্পর্কিত পোস্ট