চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৯ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:৩০ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

সোমবার লিবিয়া যাবার কথা ছিলো আরো ৫ জনের

এখনো থামেনি মানবপাচার

৫ অক্টোবর শাহ আমানত হয়ে ৫ জনের দুবাই পাড়ি

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানবপাচার চক্র। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে মানবপাচার করছে চক্রটি। চট্টগ্রাম থেকে দুবাই-মিশর হয়ে লিবিয়া যাবার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জন লোককে জড়ো করা হয়েছিলো নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় এরমধ্যে গত ৫ অক্টোবর শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে ৫ জন দুবাই চলে গেছে। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও যাবার কথা ছিলো। সোমবার বিকেলে লিবিয়া যাবার কথা ছিলো আরো পাঁচজনের। এরআগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দশজন পালিয়ে গেলেও বাকি পাঁচজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন দালালের কাছে ১৫টি পাসপোর্ট মিলেছে। কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জানান, যাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে তারা সবাই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা লোকজন। একজন গ্রামে কৃষিকাজ করেন। পাচারকারীদের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ বিপথগামী হচ্ছে। ওসি বলেন, চট্টগ্রামে পাচারকারীচক্রের বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লিবিয়াগামী ৩৯ জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছিলো র্যাব। এ ঘটনার কয়দিন পর শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের দায়িত্ব হাতছাড়া হয় নগর পুলিশের। বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিমান বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এ বিভাগটি দেখভাল করা হচ্ছে। এতেও থেমে নেই মানবপাচার। গত সোমবার নগরীর স্টেশন রোডের মিডটাউন আবাসিক হোটেল থেকে লিবিয়াগামী পাঁচ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে মানবপাচার গ্রুপের তিনজন দালাল। তারা হলেন সিলেট সুনামগঞ্জের আবদুল হাইয়ের ছেলে আতাউর রহমান, ফরিদপুরের মধ্যম কাইচাইল

গ্রামের আলমগীর মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির সাফাজ উদ্দিনের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর। উদ্ধার করা পাঁচজনের মধ্যে দুইজন ফরিদপুর ও তিনজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দালাল আতাউর রহমান জানান, তার বাড়ি সুনামগঞ্জে হলেও পরিবারসহ থাকেন নারায়নগঞ্জের সায়েস্তাপুরে। তিনি সেখানে ফুটপাতে চা বিক্রি করেন। কয়েকমাস আগে মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। তিনিই মূলত চট্টগ্রাম এবং ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে লিবিয়ায় মানুষ পাঠানোর কাজ করেন। কোতোয়ালী থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রসঙ্গে আতাউর বলেন, এসএ পরিবহনের কাকরাইল অফিস ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মতিঝিল অফিসে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাসপোর্ট আসে। এসব পাসপোর্ট সংগ্রহ করে মোশাররফের কাছে পাঠনো এবং চট্টগ্রামে লোক আনার কাজটি করতেন আতাউর। প্রতিমাসে দশ হাজার টাকা বেতনে তিনি মোশাররফের কাছে চাকুরি করেন। চট্টগ্রামে বুলবুল নামে একজন ব্যক্তি রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা লোকগুলো বুলবুলের কাছে নিয়ে আসেন তিনি। বুলবুল চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর ব্যবহার করে এসব লোকজনকে দুবাই পাঠিয়ে দেন। দুবাইতে থাকা পাচারচক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এসব লোকজনকে নিয়ে মিশর পর্যন্ত পৌছানোর কাজটি করেন। মিশর থেকে পাচারচক্রের সদস্যদের সহায়তায় তারা লিবিয়া পৌঁছেন।
আতাউরের সাথে পুলিশের হাতে ধরা পড়া দালাল জাহাঙ্গীর জানান, লিবিয়ায় বসবাসরত ফরিদপুরের মাইজকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ হালিমের ছেলে জাহিদুল, বাহ্মনবাড়িয়ার আল আামিন দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় মানবপাচারের সাথে জড়িত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বানচারামপুরের মতিনসহ আরো বেশ কয়েকজন রয়েছে যারা লিবিয়া পাঠানোর কথা বলে লোকজন সংগ্রহ করে। আতাউর বলেন, গত ৪ অক্টোবর তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে বুলবুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। বুলবুল তাকে জুবিলী রোডের হোটেল আল ফয়সালের একটি রুম ঠিক করে দেন। ঢাকার মোশাররফের সাথে বুলবুলের যোগযোগ রয়েছে।
ফরিদপুরের নগরকান্দা গ্রামের আকরাম মন্ডল স্বশিক্ষিত। গ্রামে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিবেশী হালিম মামার ছেলে জাহিদুল দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় বসবাস করছেন। জাহিদুলের মাধ্যমে একই গ্রামের বেশ কয়েকজন লিবিয়া চলে গেছে। লিবিয়া যাবার ব্যাপারে ২০ দিন আগে হালিমের সাথে আকরামের কথা হয়। হালিম বলেন, তার ছেলে লিবিয়া রয়েছে। দশদিনের মধ্যে তিনি লিবিয়া পাঠাতে পারবেন। কথামতো রাজি হলে গত শুক্রবার হালিম ফোন করে জানান, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে তাদের লিবিয়া পাঠানো হবে। হালিমের কথামতো ঢাকার মোশাররফের মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামে আসেন। সোমবার বিকেলে তাদের চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে দুবাই পাঠানোর কথা ছিলো। আকরাম মন্ডলের মতো একই কথা বললেন উদ্ধার হওয়া আরো চার ব্যক্তি।

The Post Viewed By: 134 People

সম্পর্কিত পোস্ট