চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৯ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা অফিস

আবরার খুনের প্রতিবাদ

বুয়েট ঢাবিসহ বিভিন্ন ভার্সিটির ক্যাম্পাস উত্তাল, অবরুদ্ধ ভিসি

১০ আসামি পাঁচদিনের রিমান্ডে আরও গ্রেপ্তার ৩, বুয়েটে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। বুয়েট থেকে হত্যাকারীদের স্থায়ীভাবে বহিস্কার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বার আন্দোলনে উত্তপ্ত বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দাবির সমর্থনে গতকাল মঙ্গলবার বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও একই দাবিতে মাঠে নেমেছে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা। এই দাবিকে সামনে রেখে আজ বুধবারও বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে, গত রবিবার রাতের জঘন্য এ হত্যাকা-ের নিন্দায় দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে ঝড় উঠেছে। শিক্ষক-রাজনীতিক, সাংবাদিক ও চিকিৎসকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এ হত্যাকা-ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অবিলম্বে তারা এ হত্যাকা-ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবরারের প্রতীকী লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে হাজারও শিক্ষার্থী। বিক্ষোভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবরার ফাহাদের গায়েবি জানাজাও পড়েন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।
আট দফা দাবিতে গতকাল সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস-পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন তারা। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান বুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। ঢাবি ও বুয়েট ক্যাম্পাসে পূজার ছুটি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলনরতদের আট দফা দবি হলো- আবরারের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিস্কার করা, আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে এবং ভিন্নমত দমানোর নামে নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা, ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পরও ভিসি কেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি তা গতকাল বিকেল ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাব দেওয়া, আবরার হত্যা মামলার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করা, এর আগের ঘটনাগুলোর বিচার করা, ১১ অক্টোবরের মধ্যে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করা এবং বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা। বুয়েটের শেরেবাংলা হলে প্রভোস্ট পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে বুয়েটে সব ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে আসেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে এলে আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের জন্য তার কাছে দাবি জানান। তোপের মুখে পড়েন তিনি। তিনি ছাত্রদের দাবি স্বীকার করে বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি থাকার দরকার নেই। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। এ সময় শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা না বলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও দেখান আন্দোলনকারী অনেকেই। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান বলেন, তিনি উপাচার্যকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অবহিত করবেন। তিনি বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি। এ সময় তাকে সেখানে ৫টা পর্যন্ত থাকার অনুরোধ জানান শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার জন্যও তার কাছে অনুরোধ করেন।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ : শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। গতকাল দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে এমন অভিযোগ করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মাসুদ। এর আগে আবরার হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় শিক্ষকদের এ সংগঠন।
উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ : শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম অনুসারে বিকেল ৫টার মধ্যে উপাচার্য উপস্থিত না হওয়ায় বিকেলে তার সঙ্গে দেখা করতে উপাচার্যের কার্যালয় ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে কার্যালয়ের গেটের ভেতর থেকে তালা দেওয়া থাকায় প্রবেশ করতে পারেননি তারা। পরে গেটের বাইরে থেকে আরেকটি তালা লাগিয়ে দিয়ে কার্যালয় সামনে অবস্থান নেন তারা। বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার পর বিকেল ৪টার পর থেকেই উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ওই সময় বিভিন্ন হল প্রভোস্টদের নিয়ে মিটিং করছিলেন। এদিকে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে না পারায় গেটের তালা ভেঙে প্রবেশ করার দাবিও জানায় শিক্ষার্থীদের একপক্ষ। অপরপক্ষের দাবি, উপাচার্য নিজ থেকে এসে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করুক। অবশেষে সন্ধ্যা ৬টার পর শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। শিক্ষার্থীরা নানা প্রশ্নবাণে তাকে জর্জরিত করেন। উপাচার্য বলেন, তোমাদের দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে আমরা একমত। সবকটা দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। তোমরা অধৈর্য হয়ো না। দাবিগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব। শিক্ষার্থীরা জানতে চান, সোমবার আপনি আসেননি কেন? উপাচার্য বলেন, আমি রাত একটা পর্যন্ত অফিস করেছি। তোমাদের জন্যই কাজ করেছি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অধৈর্য না হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তারা সবাই মিলে একসঙ্গে বসতে চান। এ সময় উপাচার্য সবাইকে নিয়ে বসা যায় না বলে জানান। শিক্ষার্থীরা তার আশ্বাসে আশ্বস্ত না হলে দাবি দ্রুত মেনে নিতে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উপাচার্য স্থান ত্যাগের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে উপাচার্য কার্যালয়ে ঢুকতে বাধ্য করেন। এরপর তাকে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের আট দফা দাবি না মানা পর্যন্ত আগামী ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। জানা গেছে, গতরাতে বুয়েট শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি প্রজ্বালন করেন। ভিসি এ সময় তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা রাতে ব্যাচভিত্তিক বৈঠক করে আজ বুধবার সকালে নতুন কর্মসূচি ও দাবিগুলো তুলে ধরবেন।
আবরার হত্যায় আরও ৩ জন গ্রেপ্তার : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুয়েটের ওই তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আবরার হত্যায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার তিনজন মামলার এজহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- শামসুল আরেফিন রাফাত (২১), মো. মনিরুজ্জামান মনির (২১) ও মো. আকাশ হোসেন (২১)। এর আগে গত সোমবার রাতে আরও ১০ জনতে গ্রেপ্তার করা হয়।
১০ আসামি পাঁচদিনের রিমান্ডে : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে পাঁচদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। চকবাজার থানায় আবরারের বাবার করা মামলায় মঙ্গলবার গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াছির আহসান চৌধুরী পাঁচদিন রিমান্ডের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন। যাদেরকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না।
আবরার হত্যা নিয়ে ভারতীয় তরুণীর স্ট্যাটাস : ভারতের জয়দেবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তনুশ্রী রায় এ হত্যার প্রতিবাদ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। দুই বাংলায় সেই স্ট্যাটাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তিনি লেখেন, যদিও আমি ভারতীয় তারপরও বাংলাদেশের প্রতি আমার আলাদা একটা টান রয়েছে। কারণ আমার পূর্বপুরুষ বাংলাদেশেরই মানুষ ছিলেন ৪৭’র দেশভাগের পর ভারতে চলে আসেন। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকুক এটা আমি সবসময় চাই। শুনলাম ভারত-বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ায় একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। স্ট্যাটাসটা আমি পড়লাম, নিজের দেশের স্বার্থ নিয়ে লিখার জন্য কিভাবে নিজের দেশেরই লোক একটা ছেলেকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ফেলে এটা আমার কাছে আশ্চর্য লাগছে। সামান্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে মানুষ খুন করে ফেলা হচ্ছে বাংলাদেশে। কিভাবে এমন একটা দেশে মানুষ বাস করে!
বুয়েট শিক্ষক সমিতির একাত্মতা : অতীতে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন ও র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিষ্ক্রিয় ছিলো। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। এর ফলে আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের মতো নির্মম ঘটনা ঘটেছে, যার দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আবরার হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষক সমিতির এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
আবরার ফাহাদের দাফন সম্পন : কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে তৃতীয় জানাজা শেষে ছাত্রলীগের হাতে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে গতকাল সকাল ৬টায় কুষ্টিয়া শহরের পিটিটিআই রোডস্থ নিজ বাড়িতে আবরারের মরদেহ পৌঁছলে সেখানে আল-হেরা জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৬টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বুয়েট ভিসির আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় শিক্ষার্থীরা : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমি একমত। সমস্যা সমাধানের উপায় বের করা হচ্ছে। আমি কাজ করে যাচ্ছি।’ বেঁধে দেওয়া সময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হন। নিজ কার্যালয়ের সামনে তিনি শিক্ষার্থীদের এসব কথা বলেন। এর আগে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বুয়েটের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর তারা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীরা যখন উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিচ্ছিলেন তখন এক ছাত্রী সেখানে এসে বলেন, উপাচার্য ওই কার্যালয়ের ভেতরে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। শিক্ষার্থীদের সামনে না আসায় তখন উপাচার্যের কার্যালয়ের ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সেখানে ‘হইহই রইরই ভিসি স্যার গেল কই’ বলে স্লোগান দেন। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, আংশিক কোনো দাবি মানা হবে না।
বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা : আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা বলেন, মামলার অভিযোগপত্র না দেয়া পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তাছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার এবং অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, সেজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি বলেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি উত্থাপন করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন ১৩ নভেম্বর : আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াসির আহাসান চৌধুরী এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মাঝহারুল ইসলাম বলেন, আগামী ১৩ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিকে সন্তানের এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন আবরারের বাবা-মা। তাদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় বইছে শোকের মাতম। অন্যদিকে গত সোমবার রাতে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

The Post Viewed By: 304 People

সম্পর্কিত পোস্ট