চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক , ঢাকা অফিস

জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হয় ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর সমর্থন করো, নইলে দেশ ছাড়ো

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে বাংলাদেশের যে পরিকল্পনা, তাতে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সমর্থন দিক, নইতো (সংস্থাগুলো) দেশ ছেড়ে চলে যাক।’

দ্বিতীয়বারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, ‘এবার রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠাতে কঠোর হবে সরকার। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠাতে বিরোধীতার পেছনের কারণ হচ্ছে, ভাসানচরে পাঁচ তারকার মতো কোনো অভিজাত হোটেল নাই। ওখানে তাদের (আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলোর কর্মী) থাকতে কষ্ট হবে, এখানকার (কক্সবাজার) মতো আরামে থাকতে পারবে না।’

ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমার মনে হয় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর এখনই সময়। তবে ওই দ্বীপে সব রোহিঙ্গাকে পাঠানো সম্ভব নয়। আমরা মাত্র ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে পাঠাতে পারি। তাদের জোর করে পাঠাতে চাই না। আমরা আশা করেছিলাম, তারা স্বেচ্ছায় সেখানে যাবে।’জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আপনাদের পরিকল্পনা সমর্থন না করলেও আপনারা রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, সম্ভবত। আমরা অনেক লিফলেট, সিডি ও ভিডিও জব্দ করেছি, যেগুলোতে রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট কিছু দাবি না মানলে মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কিছু দাবি মানতে রাজি হয়েছে, যেমন নিরাপত্তা দেওয়া ও চলাফেরার অনুমতি। তবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া, হত্যাকা-ে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া, রোহিঙ্গাদের এথনিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং রোহিঙ্গাদের তাদের নিজেদের ঘরবাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়ার মতো দাবি মানা হয়নি।’
জাতিসংঘের সমর্থন ছাড়া কি বাংলাদেশ ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরাতে পারবে? জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তা করতে পারবো। জাতিসংঘকে এই পরিকল্পনা মেনে নিতে হবে, নয়তো তারা রোহিঙ্গাদের তাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে। এই মানুষদের অনেকেই এরই মধ্যে অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে। ওই এলাকায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয়দের প্রায় দ্বিগুণ। স্থানীয়রা নিয়মিত অপরাধমূলক কার্যক্রমের অভিযোগ করছে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। সে কারণে আমরা তাদের ভাসানচরে যেতে বাধ্য করতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ধনী রাষ্ট্র নয়। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র। এরপরও আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক কিছু করেছি। এখন অন্যদের এগিয়ে আসতে হবে কারণ এটা শুধু আমাদের সমস্যা নয়। এটা একটা আন্তর্জাতিক ইস্যু। আমরা যদি তাদের নিরাপত্তা না দিতাম, তাহলে তারা গণহত্যার শিকার হতে পারতো।’
জাতিসংঘের বিরোধিতা করার সামর্থ্য কি বাংলাদেশের আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ আমাদের বেশি সাহায্য করছে না। তারা মিয়ানমারের রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারছে না। জাতিসংঘের এই সংস্থাগুলো কেন মিয়ানমারে কাজ করছে না? তাদের মিয়ানমারে যাওয়া উচিত, বিশেষ করে রাখাইনে। সেখানে এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত, যা রোহিঙ্গারা ফিরতে সহায়তা করতে পারে। জাতিসংঘের কাছ থেকে আমরা যে কাজ প্রত্যাশা করি, তা জাতিসংঘ করছে না।’
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো যদি আপনাদের পরিকল্পনা সমর্থন না করে তাহলে কি আপনারা তাদের তাড়িয়ে দেবেন? পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয়, আমরা তাই করবো। ভাসানচর নিরাপদ। আমরা সেখানে সুন্দর বাড়ি ও বাঁধ নির্মাণ করেছি। আমরা যদি বাংলাদেশিদের সেখানে যেতে বলি তাহলে তারা নিশ্চয় যাবে।’ রোহিঙ্গারা যদি ভাসানচরে যায় তাহলে কি তারা ইচ্ছামতো চলাফেরা করতে পারবে, নাকি তাদের ওই দ্বীপেই থাকতে হবে? জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় তারা ইচ্ছামতো ঘোরাফেরা করবে।’

শেয়ার করুন
  • 102
    Shares
The Post Viewed By: 687 People

সম্পর্কিত পোস্ট