চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২২ জানুয়ারি, ২০২৩ | ৪:১৪ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

বিএনপির অফিস ‘ভাঙচুরের’ অভিযোগে মামলার আবেদন খারিজ

নয়াপল্টনে সংঘর্ষের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশিদসহ ১০ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

 

রবিবার (২২ জানুয়ারি) মহানগর হকিম রাজেশ চৌধুরী বাদীর জবানবন্দি শুনে দুপুরে আবেদনটি খারিজ করে দেন বলে জানান বাদীর অন্যতম আইনজীবী কালাম খান।

 

এর আগে সকালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলার আবেদন করেছিলেন।

 

আবেদনে আরও যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সঞ্জিত কুমার রায়, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মেহেদি হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, উপপুলিশ কমিশনার হায়াতুল ইসলাম খান, এসি মতিঝিল জোন গোলাম রুহানি, আনসার সদস্য আল আমিন ওরফে মাহিদুর রহমান সহ অজ্ঞাতনামা ২০০-৩০০ পুলিশ সদস্য।

 

মামলার আরজিতে বলা হয়, গত ৭ ডিসেম্বরে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত আসামিরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করে অনিষ্ট সাধনের পাশাপাশি মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। লুটপাট সম্পাদনের মাধ্যমে তাণ্ডব চালায়, অফিসের নিচতলার প্রধান প্রবেশ পথ থেকে ৬ তলা পর্যন্ত ডাকাতি করে। এ সময় অফিসের স্টাফ সহ আটকে রাখা নেতাকর্মীদের ব্যাপক মারপটি করে।… বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠান বানচালের জন্য ঘটনার দিন উল্লিখিত সময়ে আসামিরা এ অপকর্ম করে।

 

সেখানে বলা হয়, গত ৭ ডিসেম্বরে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত আসামিরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করে অনিষ্ট সাধনের পাশাপাশি মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। লুটপাট সম্পাদনের মাধ্যমে তাণ্ডব চালায়, অফিসের নিচতলার প্রধান প্রবেশ পথ থেকে ৬ তলা পর্যন্ত ডাকাতি করে। এ সময় অফিসের স্টাফ সহ আটকে রাখা নেতাকর্মীদের ব্যাপক মারপটি করে।… বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠান বানচালের জন্য ঘটনার দিন উল্লিখিত সময়ে আসামিরা এ অপকর্ম করে।

 

আরজিতে সাক্ষী করা হয় বিএনপির ১৪ জনকে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজসহ আলামত সংগ্রহে আদালতের পদক্ষেপ এবং হস্তক্ষেপ চাওয়ার পাশাপাশি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন বাদী।

 

ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে গতবছরের ৭ ডিসেম্বর বিএনপিকর্মীরা নয়াপল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে জড়ো হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সেখানে সংঘর্ষে আহতদের একজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান এবং অনেকে আহত হন।

 

পরে বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকশ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। চারদিন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকার পর ওই কার্যালয় খুলে দেওয়া হয় ১২ ডিসেম্বর।

 

সেদিন কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিএনপি নেতারা বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন। পুলিশের অভিযানের সময় কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে সে সময় অভিযোগ করেন তারা।

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স সেদিন বলেন, কার্যালয়ের ভেতরে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কক্ষ, কেন্দ্রীয় দপ্তরের কক্ষ, কনফারেন্স হলসহ ছয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন অফিস কক্ষে ভাঙচুর করা হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে কম্পিটারের সিপিইউ, ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, সিমসহ মোবাইল ফোন, নথিপত্র, দেয়ালঘড়িসহ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।

 

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ৭ ডিসেম্বর বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ‘হামলা’ করে। বিএনপি কার্যালয় থেকে হাতবোমা ছোড়া হয়।

 

বিএনপির নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। তবে তাদের কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুরের বিষয়টি আমার জানা নেই।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট