চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৬ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘প্রায়ই বাথরুমে আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠান্ডা পানি গায়ে দিত’

অশ্রুসিক্ত চোখে অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন গৃহকর্মী তানিয়া বেগম। আজ সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী মিলে আমার চুল কেটে দিয়েছিল। রেজার দিয়ে ভ্রু কাটা হয়। প্রায়ই বাথরুমে আটকে দরজা বন্ধ করে সাওয়ার ছেড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরের ওপর ঠান্ডা পানি ছাড়া হত।’

তানিয়া আরও জানান, নানা অজুহাতে তার ওপর নেমে আসত বীভৎস নির্যাতন। গৃহকর্ত্রীর ছোট্ট সন্তান কান্না করলেও তানিয়াকে মারা হত। কখনও রাত জাগতে কষ্ট হলেও বেদম প্রহার করা হয়। রাত জাগতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় এজন্য একদিন জোর করে তাকে ইয়াবা বড়ি দেওয়া হয়। মারধরের পর ছবি তুলে রাখতেন গৃহকর্ত্রী। তার বাসায় কেউ আসলে বলত তানিয়া পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে।

 

তানিয়া বলেন, ‘আমার ওপর যে নির্যাতন চালানো হত এর বিচার চাই। আমরা গরীব মানুষ। কিভাবে তাদের মতো বড় লোকদের বিরুদ্ধে লড়ব।’

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কল পেয়ে গত মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের ৮৪ নম্বর বাড়ির সাততলার ফ্ল্যাট থেকে তানিয়াকে উদ্ধার করে পুলিশ। নির্যাতনের সময় চিৎকার-চেচামেচির আওয়াজ যখন আসছিল সেটি পাশের বাড়ির এক বাসিন্দার নজরে আসে। তখন তিনি ৯৯৯-এ কল করেন। এরপর বনানী থানা পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। তবে ঘটনার পরপরই নির্যাতনের বিভৎস আলামত পেয়েও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি। হাতের কাছে পেয়েও আসামিদের আইনের আওতায় নেওয়া হয়নি। দেরিতে মামলা হওয়ায় আসামিরা পালানোর সুযোগ পেল। তবে পুলিশ শুরু থেকে দাবি করে, সমঝোতা হওয়ায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।

 

বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া বলেন, ‘পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আমরা আসামিদের খুঁজছি। বাসায় অভিযানও চালিয়েছি। পালিয়ে যাওয়ায় তাদের ধরা যায়নি। তবে দু-এক দিনের মধ্যে ধরতে পারব।’

এদিকে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী তানিয়া এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি। ঢাকায় পরিচিত এক ব্যক্তির বাসায় চিকিৎসকের পরামর্শে তার সেবা চলছে।

 

পূর্বকোণ/মামুন/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট