চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৫ ডিসেম্বর, ২০২২ | ৪:১৪ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

আত্মহত্যার বিষয়ে ডিবি স্পষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেনি : পরশের সহপাঠী

বুয়েটের শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের আত্মহত্যার বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) স্পষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেনি বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল। তবে ডিবির কাজের অগ্রগতি ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিবি কার্যালয় থেকে বের হয়ে তারা এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১১টায় ডিবি প্রধানের বক্তব্যে উল্লেখিত ‘আত্মহত্যার প্রমাণ’ দেখতে পরশের সহপাঠীরা মিন্টো রোডের কার্যালয়ে যান।

 

ফারদিনের সহপাঠীরা জানান, ‘গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ আত্মহত্যার বিষয়টি পেয়েছে বলে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। অনেক বিষয় আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। আমরাও অনেক বিষয় জেনেছি। তবে আমাদের মনে হয়েছে, কিছু বিষয়ে গ্যাপ রয়েছে। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে কর্মকর্তারা তদন্ত করে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন।’

তারা আরও বলেন, ‘তারা এখনও এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। আমাদের কাছে যেসব পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, আমরা সেগুলো জানিয়েছি। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বক্তব্য আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। তাদের তদন্তের ধরন ও এফোর্ড সম্পর্কে কিছু গ্যাপ রয়েছে, কিছু স্পট রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে হয়তো আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার রয়েছে।’

 

ফারদিনের সহপাঠী কামরুল হোসেন বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশের কার্যকলাপে আমরা অনেকটাই আশ্বস্ত। পুরোপুরি তদন্ত তো এখনও শেষ হয়নি। এখনও চার্জশিট দেওয়া হয়নি। উনারা এখন পর্যন্ত অনেক কাজ করেছেন, সেজন্য আমরা কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। মৃত্যু নিয়ে পরিষ্কার কোনও মোটিভ আমাদের কাছে নেই। উনারা কিছু জিনিস আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন, যা সারকামসটেনশিয়াল এভিডেন্স বলা যায়। আত্মহত্যায় মনে হতে পারে কিন্তু কংক্রিট কোনও তথ্য তারা দিতে পারেনি আত্মহত্যা সম্পর্কে।’

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টি আমরা ৩৮ দিন ধরে তদন্ত করেছি। এর আগেও বেশ কয়েকবার গণমাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা কথা বলেছি, তার মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বলা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ তদন্তে জানতে পেরেছে, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। গত দুই বছর ফারদিন ৫২২টি নম্বরে কথা বলেছে। সেসব ফোন নম্বরের ব্যক্তিদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।’

 

ডিবি প্রধান বলেন, ‘বুয়েটের ৪০ জন শিক্ষার্থীর সামনে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন পয়েন্ট তুলে ধরেছি তাদের সামনে, কী কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। গত দুই বছরে সে সুলতানা কামাল ব্রিজের এখানে যায়নি। হত্যা মামলার আসামি ফারদিনের বান্ধবী বুশরার বিরুদ্ধেও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।’

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট