চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৬ অক্টোবর, ২০২২ | ১২:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য কেনার সিদ্ধান্ত

সরকারের খাদ্য গুদামে বর্তমানে ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত রয়েছে। মজুত আরও বাড়াতে নতুন করে ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য (চাল ও গম) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব খাদ্যশস্য আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক করোনা মহামারী এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী নিত্যপণের দাম বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের নভেম্বরে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে খাদ্যের মজুত আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার খাদ্য নিরাপত্তায় যেকোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে চালের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

পাঁচটি দেশ থেকে খাদ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশগুলো হলো রাশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, ভারত ও থাইল্যান্ড। রাশিয়া থেকে খাদ্য আমদানিতে কূটনৈতিক সমস্যাও কেটে গেছে। খাদ্যশস্য মজুত সন্তোষজনক উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে এখন ২০ লাখ টনের বেশি চাল মজুত আছে।

 

‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন খাদ্যের দিক থেকে আমরা নিরাপদে আছি। তারপরও মজুত বাড়াতে হবে।’ খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত থেকে জিটুজি পর্যায়ে এক লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারের ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ ছাড়া ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি পর্যায়ে দুই লাখ টন থাই নন-বাসমতি চাল এবং ভারত থেকে ৩০ হাজার টন আতপ চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই দেশ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আসবে। নন-বাসমতি প্রতিটন ৫২১ মার্কিন ডলার। ৩০ হাজার টন আতপ চাল প্রতিটন ৪৯৪ মার্কিন ডলার। দুই লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানিতে খরচ হবে ১১ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। টাকায় এর পরিমাণ এক হাজার ১৩০ কোটি ৬৯ টাকা।

সরকার রাশিয়া থেকে জিটুজি (সরকার টু সরকার) পর্যায়ে পাঁচ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদের সভার প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, নভেম্বরে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এজন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুতের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট