চট্টগ্রাম শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৩ অক্টোবর, ২০২২ | ২:৫২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

বাসায় ডেকে নিয়ে রূপচর্চাসেবার নামে ধর্ষণ: ৪ জনের নামে মামলা

বিউটি পার্লারের (রূপসজ্জা) হোম সার্ভিসের কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে এক বিউটিশিয়ানকে (২৫) ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার (১২ অক্টোবর) রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় তিন পুরুষ ও এক নারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

 

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে ওই পারলার–কর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

 

ওসিসির সমন্বয়ক বিলকিস বেগম বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আজ তাঁর আরও কিছু পরীক্ষা–নিরিক্ষা করা হবে। এরপর বিস্তারিত বলা যাবে।

 

এর আগে মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিউটি পার্লারের (রূপসজ্জা) হোম সার্ভিসের কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে এক বিউটিশিয়ানকে (২৫) ধর্ষণ করেছে তিন যুবক। পরে পাঁচ মাসের ওই অন্তঃসত্ত্বাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শুক্রাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার ভুক্তভোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যে এরই মধ্যে ঘটনাস্থল শনাক্ত করে জড়িত তিন বন্ধুর নাম-পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ।

 

ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া জানান, ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করে পুলিশ। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

ভুক্তভোগীর ভাই জানান, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় স্বামীর সঙ্গে থাকেন তার বোন। ভগ্নিপতি অনলাইনভিত্তিক জুতার ব্যবসা এবং বোন বাসায় গিয়ে রূপসজ্জার কাজ করেন। মঙ্গলবার তিনি সাভারে এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। ফোন করে তাঁকে একটি রূপসজ্জার কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। চূড়ান্ত হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে তাঁর বোন শুক্রাবাদের ওই বাসায় গিয়ে তিন যুবক ও এক নারীকে পান। প্রথমে তারা মারধর করে। এক পর্যায়ে তিন যুবক তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। গর্ভাবস্থার কথা জানিয়ে অনুনয় করেও রক্ষা পাননি তিনি।

 

ধর্ষণের পর রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগীকে চুপচাপ চলে যেতে বলে বখাটেরা। ঘটনা জানাজানি হলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নেয় তারা। পরে শুধু সিমকার্ড ও ১০ টাকা তার হাতে ধরিয়ে দেয় বখাটেরা। ওই পরিস্থিতিতে তিনি চুপচাপ সেখান থেকে বের হয়ে সাভারের উদ্দেশে রওনা হন এবং বাসে অন্য একজনের সহায়তায় বিষয়টি ফোন করে স্বামীকে জানান। সাভারের ওই বাসায় গিয়ে তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল সকালে তাকে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। পরে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢামেক হাসপাতালে।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট