চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

৬ অক্টোবর, ২০২২ | ৬:০৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

অন্যদেশের সরকারও টাকা পাচারে উৎসাহিত করে : মোমেন

বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মূলত বিদেশের (অন্যদেশ) সরকারও টাকা পাচারে উৎসাহিত করে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বুধবার (৫ অক্টোবর) ভয়েস অব আমেরিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, বিদেশের সরকারের কাছে আমরা যখন তথ্য চাই যে, আমাদের দেশের লোক আপনার দেশে টাকা পাচার করেছে কি না বিদেশি অ্যাকাউন্টে, উনারা এসব তথ্য দেন না। উনারা তখন বলেন যে, গোপনীয়তা আইনে আমরা কোন তথ্য দিতে পারবো না। এটা কিন্তু উভয় সংকট। বিদেশ সরকারও ‘এনকারেজ’ করে টাকা পাচারে। যেমন কোন কোন সরকার বলে, আমার দেশে যদি আপনি ওয়ান মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট (বিনিয়োগ) করেন…আপনাকে আমরা ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) দেবো, সিটিজেনশিপ (নাগরিকত্ব) দেবো। এর ফলে তারা টাকা নিয়ে আসতে লোকদের প্রলুব্ধ করছে এবং এসে এখানে তা বিনিয়োগ করতে বলছে।

 

কানাডার ‘বেগম পাড়া’, মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোম’, সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখাসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ এনে অর্থপাচার ও তা ফেরানোর ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে কোকো (আরাফাত রহমান) যখন বিদেশে টাকা পাচার করেছিলেন, মার্কিন সরকারের এফবিআই আমাদের সাহায্য করেছিল এবং তারা সাহায্য করার ফলে আমরা ওই টাকাগুলো ফেরত নিয়ে এসেছি। কেবল আওয়ামী লীগ সরকারই বিদেশ থেকে পাচার করা টাকা ফেরত নিয়ে এসেছে। আর কোন সরকার আনেনি।

অর্থপাচার বন্ধে দেশসমূহের যৌথ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য বা সব দেশের সরকার বলে যে আমাদের দেশে যারা বিদেশিরা টাকা এনেছেন, আমরা তাদের ইনভেস্টিগেট করবো, তখন টাকাগুলো ফেরত পাওয়া যায় কি না সেটার একটা উপায় বের হতে পারে। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র কিছু গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবে, এর ফলে আমাদের উপকার হবে। আমরা নিজেরাও কিছু উপায় বের করেছি, বিদেশে কেউ পাচার করলে যদি আপনি স্বদেশে নিয়ে আসেন, আপনাকে কম ট্যাক্স চার্জ করা হবে। কিন্তু তাতেও খুব সুবিধা হচ্ছে না। আমরা অর্থ ফেরত পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। তবে বিদেশি সরকারের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়।

 

পূর্বকোণ/এএস/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট