চট্টগ্রাম রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৪ অক্টোবর, ২০২২ | ১:১৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোলে কুমারী পূজা

শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি, দেবী স্তুতি, কল্পারম্ভ আর সন্ধিপূজার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে সনাতম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন অর্থাৎ ‘মহাঅষ্টমী’। সারাদেশের মতো গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটার শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ জীউ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কুমারী পূজা’। মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে করা হয় কুমারী পূজা। শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে ‘কুমারী মায়ের’ নাম প্রীতি ধর। সে সেন্ট স্কলাসটিকা স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। শাস্ত্রমতে তার নামকরণ হয় ‘মালিনী’। কুমারীর বয়স ৭ বছর হওয়ায় মালিনী নামে পূজিত হন সে। মালিনী নামে কুমারী পূজিত হলে ধৈনশ্বর্য লাভ হয়। সে মিন্টু ধর ও পলি ধরের কন্যা। সকাল সাড়ে ১০টায় পূজা শুরু হয়। কুমারী পূজায় পৌরোহিত্য করেন মন্দিরের ব্রাহ্মণ শ্যামল সাধু মোহন্ত মহারাজ।

প্রীতির পিতা-মাতা জানান, মেয়েকে কুমারী পূজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পেরে পরমভাগ্যবান মনে করছেন তারা। শ্যামল সাধু কুমারী পূজাকালে ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দুর্গার আরেক নাম কুমারী। কুমারীরা শুদ্ধতার প্রতীক হওয়ায় মাতৃরুপে ঈশ্বরের আরাধনার জন্য কুমারী কন্যাকে নির্বাচিত করা হয়। মূলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তবরূপ কুমারী পূজা।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কুমারীতে সমগ্রজাতির শ্রেষ্ঠ শক্তি,পবিত্রতা, সৃজনী ও পালনী শক্তিসহ সকল কল্যানী শক্তি সুক্ষরুপে বিরাজিতা। দুর্গাপূজায় কুমারী পূজা হলো অশুভ, অন্যায়, পাপ পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে ন্যায়, পূর্ণ, সত্য, শুভ ও সুন্দরের যুদ্ধ কুমারী প্রতীকে। জগজ্জননীর পূজায় পরম সৌভাগ্য লাভ হয়। এই রুপ কুমারী সমগ্র জগতের বাক্যস্বরুপা, বিদ্যাস্বরুপা। তিনি এক হাতে অভয় এবং অন্যহাতে বর প্রদান করেন।’ হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়।

 

শ্রীরাম কৃষ্ণের কথা মতে, কুমারী পূজার বিষয়ে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ। এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চোদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

 

আজ মঙ্গলবার মহানবমী। ভক্তদের দেয়া ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে পূজা হবে দেবী দুর্গার। নবমী বিহিত পূজা হচ্ছে নীলকণ্ঠ, নীল অপরাজিতা ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে। দেবী দুর্গার কাছে নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে আহুতি দেয়া হয়। শাস্ত্রমতে ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞের আয়োজন করা হয় ও বলিদানের মাধ্যমে মায়ের চরণে পূজা দেওয়া হয়। প্রতিবছর এ তিথিতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা ভক্তদের মাঝে আবির্ভূত হন অসুর শক্তির হাত থেকে মানুষের মুক্তি ও রক্ষা করে অসুরকে বধ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য। নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদ লাভ হয়। এদিকে সবার চোখে এখন উৎসবের রেশ। আজই তো আনন্দের শেষ দিন। কারণ আগামীকাল বিজয়া দশমী।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট