চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৩ অক্টোবর, ২০২২ | ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা

উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে পালিত হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত পূজামণ্ডপ। উৎসবের জোয়ার বইছে চারদিকে। সকাল থেকেই চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে মাইকে পুরোহিতের স্তোত্রপাঠ, ভক্তদের দল বেধে পুষ্পাঞ্জলি নেয়ার ভিড় এবং সন্ধ্যার পর দেবীর আরাধনা। বৃষ্টি শংকার মধ্যেও সন্ধ্যার পর নতুন পোশাকে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত পূজার্থীরা।

গতকাল সপ্তমী তিথিতে সন্ধ্যার পর থেকে নগরীর প্রধান পূজামণ্ডপ জেএমসেন হল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে প্রতিটি মণ্ডপে ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। বিকেলে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হয় ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সভা। প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত অবধি চলে আরতি। ষষ্ঠী, সপ্তমী পেরিয়ে আজ নবরাত্রির অষ্টমী তিথি। এই তিথিতে মা দুর্গা পূজিত হন দেবী মহাগৌরী রূপে। শারদীয়া অষ্টমী তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই দিন সকাল থেকে বাঙালির ঘরে ঘরে অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকানুযায়ী, আজ সোমবার মহাঅষ্টমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে এবং বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। নগরীতে প্রতিবারের মতো এবারও পাথরঘাটা শান্তনেশ্বর মাতৃমন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা।

 

মন্দিরে পুরোহিত সীতানাথ দাশ রাধেশ্যাম বলেন, ঐতিহ্য মেনে এবারও মন্দিরে কুমারী রূপে পুজিত হবে দেবী দুর্গা। পূজা শেষে কুমারী মাকে দর্শনের সুযোগ পাবেন ভক্তরা। প্রথা এবং নিরাপত্তার কারণে মেয়েটির নাম পূজার পূর্বে প্রকাশ করা হয় না। সব নারীতে মাতৃরূপ উপলব্ধি করায় কুমারী পূজার লক্ষ্য। দুর্গাপুজোর অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাচার সন্ধিপুজোও হবে আজ। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে এই পুজো হয় বলে উপাচারের নাম সন্ধিপূজা। সন্ধিপূজা হবে বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে থেকে বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটের মধ্যে।

দুর্গাপুজোর পিছনে বেশ কিছু অসুর বধের কাহিনি রয়েছে। যার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে সন্ধি পুজোর। অষ্টমী শেষ হয়ে যখন নবমী তিথি শুরু হয় তখনই সন্ধিপুজো করা হয়। আসলে সন্ধিপুজো হল সন্ধ্যার প্রতীক। অষ্টমী তিথি শেষ হয়ে যাওয়ার শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথি শুরু হওয়ার প্রথম ২৪ মিনিটকে বলে সন্ধিক্ষণ।

এদিকে গতকাল রবিবার সপ্তমীর সকালে পূজার শুরুতেই দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান করানো হয়। এরপর করা হয় নবপত্রিকা স্থাপন। নবপত্রিকার আরেক নাম হলো কলা বৌ স্নান।

এছাড়া দেবীর চক্ষুদানের মাধ্যমে দেবী দূর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পূজা শেষে হাতের মুঠোয় ফুল, বেলপাতা নিয়ে ভক্তরা মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে এবারের পূজার প্রথম অঞ্জলি দেন দেবীর পায়ে। করজোরে কাতর কণ্ঠে জগজ্জননীর কাছে শান্তিময় বিশ্বের প্রার্থনা করেন ভক্তরা।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট