চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

শেখ হাসিনার বিকল্প তিনি নিজেই

এক সময় যে বাংলাদেশ ছিল দরিদ্র ও অনুন্নত, সেই বাংলাদেশই এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও সাহসী নেতৃত্বে দৃপ্ত পায়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের যে কোনও অঞ্চলে চোখ মেলে তাকালেই ভেসে উঠে উন্নয়নের নানাচিত্র। তার বাইরে, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক হাজারো সংকট মোকাবেলা করে মধ্যআয়ের দেশের কাতারে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম সফল ও আলোচিত নেত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়ে তুলতে একের পর এক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সাফল্যের সাথে তা বাস্তবায়ন করে দেশে ও বিদেশে তিনি এখন আলোচিত রাজনীতিক। তাঁর অধ্যবসায়ী মনোভাব এবং পরিশ্রমী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আজ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। মাত্র এক দশকে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন দেখে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রসমূহের কর্ণধাররাও আজ বিস্মিত। দেশ আজ আধুনিক অবকাঠামোগত প্রক্রিয়া সমৃদ্ধ। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় স্থান করে দিয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই উন্নয়নের এক ‘রোল মডেল’ হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি অর্জন, বিশ্বনেতাদের কাছেও আলোচিত।
মানুষের মনে এখন উন্নয়ন স্পৃহা, দেশব্যাপী বড় কাজের বড় নিদর্শন, প্রযুক্তির প্রভাব ঘরে বাইরে সর্বত্র, আধুনিক বিশ্ব হাতের মুঠোয়। আবার দেশ জুড়ে কুযুক্তি ও মৌলবাদী অমানবিকতার প্লাবন। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের দূরদর্শী, সাহসী ও বলিষ্ঠ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের মধুমতী নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘাতকদের গুলিতে নিহত হন। তখন বিদেশে ছিলেন শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা।
১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন শেখ হাসিনা। ওই বছর দলের সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর ওই বছরের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৮ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তার প্রধানমন্ত্রীত্বকাল ১৭ বছরের বেশি। টানা ৪১ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সভাপতির দায়িত্বও সফলভাবে সামলে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতায় শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বদরবারেও অন্যতম প্রধান নেতা তিনি। বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনা আলোচিত আজ তার সাহসের কারণে। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যাঁরা খোঁজ-খবর রাখেন, এমন সকলেই জানেন যে শেখ হাসিনার অন্যতম শক্তি হলো তাঁর অসম সাহস। তিনি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে যখন পা রাখেন, তখন গোটা রাজনীতিতে এক বৈরী পরিবেশ বিরাজমান। নানাকারণে, তার জীবননাশেরও সমুহ শঙ্কা ছিল সেই সময়। এমন নাজুক প্রতিক‚ল পরিবেশ উপেক্ষা করেই শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেদিন বাংলাদেশে ফেরেন। এটি ছিল, তাঁর সাহসের একটি বড় প্রমাণ।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বাস্তবায়ন ঘটে। তাঁর নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠিত হয় এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। শুরু হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। জাতিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেন শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট