চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১২:১৬ অপরাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

দর নির্ধারণেই ৪ বছর পার

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) বহরে নতুন ছয়টি জাহাজ যুক্ত করতে ২০১৮ সালে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরপর চীনা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাব দেওয়া, সে দেশ থেকে জাহাজ ক্রয়ে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা ও জাহাজের দরদাম নির্ধারণ করে জাহাজ ক্রয়ের প্রাথমিক কাজ শেষ করতেই ব্যয় হলো চার বছর।

গতকাল (সোমবার) সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নৌপরিবহন সচিব মো. মোস্তফা কামালের সাথে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জাহাজ সরবরাহের ব্যাপারে তাদের দর প্রস্তাব করেছেন। সেই দর সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনার পর ঠিক হবে ৬ জাহাজের দাম। বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিএসসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইন ও সংসদীয় বিভাগের প্রতিনিধিসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্য ৪ বছর ব্যয়ের ব্যাপারে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিএসসির কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার বৈশ্বিক মহামারী ও বৈশ্বিক মন্দাবস্থার কারণে জাহাজ ক্রয়ের কার্যক্রম ধীর গতিতে চলে। যার কারণে সময় ব্যয় হয়েছে।

বিএসসি চীন থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যে ছয়টি জাহাজ কিনতে চায় সেগুলো তেল ও কয়লা পরিবহনে ব্যবহার করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ছয় জাহাজের মধ্যে পরিশোধিত তেল পরিবহনে এক লাখ থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ডেড ওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার মাদার ট্যাঙ্কার কেনা হবে দুটি। দুটি ডিজেল পরিবহন উপযোগী ৮০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার অয়েল ট্যাঙ্কার কেনা হবে। কয়লা পরিবহনে কেনা হবে ৮০ হাজার ডিডব্লিউটি সম্পন্ন দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার।

এ জাহাজগুলো ক্রয়ে ২০১৮ সালের ২৭ জুন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। পরে ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল চীন সরকার নীতিগত অনুমোদন দেয়। এরপর করোনার মধ্যে জাহাজ ক্রয়ের ব্যপারে ভার্চুয়াল মিটিং হয় কয়েকবার। এবার চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে সরাসরি দরদাম বিষয়ক আলোচনা হলো।

বিএসসি’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন জাহাজ ক্রয়ে দাম নির্ধারণ করে চীনা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলে জাহাজগুলো নির্মাণ শেষে বাংলাদেশে আসতে আরো অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত বিএসসির বহরে ৪৪টি জাহাজ অন্তর্ভুক্ত হয়। আশির দশকের প্রথম দিকে এ বহরে ২৮টি জাহাজ ছিল। বয়সজনিত কারণে ও বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক হওয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে ৩৬টি জাহাজ বিক্রির পর বর্তমানে করপোরেশনে জাহাজের সংখ্যা মাত্র আট। এর মধ্যে দুটি লাইটারেজ ট্যাংকার পুরনো।

চীন সরকারের অর্থায়নে বিগত সময়ে আরও ৬টি জাহাজ কেনা হয়েছিল। যার মধ্যে আছে তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার ও তিনটি প্রডাক্ট অয়েল ট্যাংকার। বর্তমানে এগুলো পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত।

এরমধ্যে বাংলার অগ্রদূত নামের একটি জাহাজ ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কবলে পড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। যেটি এখন পরিত্যক্ত।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট