চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১:২৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

ফের ঝুমন দাসের জামিন নামঞ্জুর

ফেসবুকে ‘উসকানিমূলক পোস্ট’ দেওয়ার অভিযোগে ফের কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ঝুমন দাস আপনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় দুই দফায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলো।

 

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্বিতীয় বারের মতো জামিন আবেদন করেন ঝুমনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পংকজ কুমার। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। পরে আজ আবার আদালতে জামিন চাইলে সেটাও নামঞ্জুর করেন জেলা ও দায়রা জজ জাকিয়া পারভীন। তবে এ সময় অভিযুক্ত ঝুমন দাসকে আদালতে তোলা হয়নি। জামিন শুনানিকালে তিনি কারাগারে ছিলেন।

 

ঝুমনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পংকজ কুমার জানান, আমরা এর আগেও একবার জামিন চেয়ে পাইনি। তখন আমল গ্রহণকারী আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। তাই আজ জজ আদালতে জামিন চাই। আদালত আজও ফের জামিন নামঞ্জুর করেন। এখন বাকি থাকল উচ্চ আদালত। আমরা সেখানেও যাব।

 

ঝুমন দাসের স্ত্রী সুইটি বেগম বলেন, ঝুমনের জামিন চেয়ে আমাদের করা আবেদন আজও নামঞ্জুর হয়েছে। আমি আমাদের আইনজীবীর কাছে যাচ্ছি। ওনার সঙ্গে পরামর্শ করে উচ্চ আদালতে জামিন চাইব। আশা করি উচ্চ আদালত আমাদের ফিরিয়ে দেবেন না।

 

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে হেফাজতের ‘শানে রিসালাত’ সমাবেশে তৎকালীন আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক আসার পরের দিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে ‘উস্কানিমূলক’ স্ট্যাটাস দেন শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের যুবক ঝুমন দাস।

 

এ ঘটনা নিয়ে উত্তেজিত হয়ে হেফাজত ইসলামের স্থানীয় সমর্থকরা ১৭ মার্চ হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াগাঁওয়ে শতাধিক হিন্দু বাড়ি-ঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। যা সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। উস্কানিমূলক স্ট্যাটাসের দায়ে ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় প্রায় ৭ মাস কারাগারে থেকে জামিনে মুক্ত হন।

 

জামিনে মুক্তির শেষ সময়ে এসে ফের গত ২৮ আগস্ট ফেসবুকে ধর্মীয় উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অপরাধে ৩০ আগস্ট দুপুরে শাল্লা থানা পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে পোস্ট দেওয়ার বিষয় স্বীকার করলে রাতেই পুলিশ বাদি হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট