চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৬:১২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

আওয়ামী লীগ আগেই সংবিধান খেয়ে ফেলেছে : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশে সাংবিধানিক নিয়মে নির্বাচন হবে। কিন্তু কীভাবে?  সংবিধান তো আওয়ামী লীগ আগেই খেয়ে ফেলেছে।’

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা খাই কিংবা না খাই, স্বাধীনভাবে কথা বলতে চাই। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে ও আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই। অথচ তার কোন কিছুই বর্তমানে করা সম্ভব নয়। স্বাধীনতার ৫১ বছর পার হয়ে গেল, এখনো আমরা স্বাধীনতার জন্য, আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। কী দুর্ভাগ্য আমাদের। স্বাধীনতার এত বছর পর এসেও, স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। যেখানে কথা বলার স্বাধীনতা নেই। অধিকারের স্বাধীনতা নেই। তাহলে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হলো কী করে? যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তারা তো শটগান দিয়ে মানুষ মেরে ফেলছেন। তাদের কাছে আমরা কীসের গণতন্ত্রের আশা করব?’

 

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র হরণকারীরা যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তখন লজ্জা-ধিক্কার ছাড়া কিছুই আশা করা যায় না। দেশজুড়ে দেশের মানুষের জন্য প্রায় দেড়মাস ধরে আমরা আন্দোলন করছি। অথচ আমাদের ছেলেদের তারা গুলি করছে। নির্যাতন করছে। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে (শেখ হাসিনা) বড় বড় কথা বলছেন। কেউ যুদ্ধ চায় না, কেউ নিষেধাজ্ঞা চায় না। তার মুখে এটা মানায় না। শাওন, আব্দুর রহিম, নূরে আলমের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাদের রক্তের প্রতি সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, ভালোবাসা জানাতে চাই। এ জন্য এই সরকারকে প্রতিহত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।’

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুরোপুরি বিকৃত করা হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘যারা যুদ্ধ করলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, তাদের নাম আওয়ামী লীগ উল্লেখ করে না। এমনকি শুধু জিয়াউর রহমানই নন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাদের নামও তারা নেয় না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীর মতো বীর যোদ্ধার নামটা পর্যন্ত তারা নেয় না। তাহলে তারা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করল? তারা (আওয়ামী লীগ) নাম না নিলেও লক্ষ শহীদের নাম, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চাইলেই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না। এখনই সময় বাংলাদেশের মানুষকে জেগে উঠতে হবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে।’

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল সাবেক উপ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

 

পূর্বকোণ/এএস/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট