চট্টগ্রাম রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:৪০ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামলো রিজার্ভ

ডলারের সংকট কাটাতে ও রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ, কৃচ্ছ্রসাধন এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ। এর পরেও রিজার্ভের ওপর চাপ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এতে গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে রিজার্ভ। আজ রিজার্ভ কমে ৩৭ বিলিয়নের নিচে নেমে এসেছে।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত সেমাবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার। তবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেশগুলোর জুলাই-আগস্ট সময়ের জন্য এক দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করায় রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ১৩ বিলিয়নে নেমে আসে। তার আগে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

তবে গত বছরের ২৫ আগস্ট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৮ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ কমেছে প্রায় ১১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম গগণমাধ্যমকে বলেন, কোনো দেশের ৩ মাসের আমদানি বিল পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকলে তা আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। তবে আমাদের বর্তমান যে রিজার্ভ আছে তা দিয়ে ৫ মাসের বেশি আমদানি বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এতে বলতেই পারি রিজার্ভ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, সরকার আমদানিতে কড়াকরি ও কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ঘোষণা করছে। এতে আমদানি কমতে শুরু করেছে। তাছাড়া রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে রেমিট্যান্স সংগ্রহ বেড়েছে, জনসংখ্যা রপ্তানিও বেড়েছে। সামনে রেমিট্যান্স সংগ্রহ আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মাস সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে মোট ১০০ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৪ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৮৪ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া একটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স।

একক ব্যাংক হিসেবে এসময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। বেসরকারি খাতের এ ব্যাংকটির মাধ্যমে ২২ কোটি ডলার, সিটি ব্যাংকে ৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ৭ কোটি ৩০ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকে ৬ কোটি ২৩ লাখ, ডাচ্–বাংলা ব্যাংকে ৫ কোটি ২১ লাখ এবং পূবালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

 

পূর্বকোণ/রাজীব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট