চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

পোশাক রপ্তানি খাতে উদ্বেগ বাড়ছে

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, পাঁচ-ছয় মাস আগেও পোশাকশিল্প খাত শক্ত অবস্থানে ছিল। ক্রয়াদেশের পরিমাণ এতই ছিল যে, উদ্যোক্তারা সামাল দিতে পারছিলেন না। কিন্তু হঠাৎ পরিস্থিতি উলটে গেল। গত দুই মাসে পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পোশাক রপ্তানির ৩০ শতাংশ অর্ডার স্থগিত হয়ে গেছে। কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থির অর্থনৈতিক প্রভাব ইতিমধ্যে রপ্তানিকে প্রভাবিত করতে শুরু করেছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পশ্চিমের বাজারে ভোক্তা চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে।

 

বৈশ্বিক করোনা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বহুজাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য কেনার আদেশ বাতিল ও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে বিপর্যস্ত হচ্ছে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প। নতুন করে শুরু হয়েছে অর্ডার বাতিল ও স্থগিত। অন্যদিকে আগের দামে পোশাক কিনছে না ক্রেতারা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল সুতা, রং, কেমিক্যালসহ সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে দাম বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। সব মিলিয়ে নতুন শঙ্কায় পড়েছে দেশের পোশাক খাত।

 

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি এবং স্যুয়েটার খাতের বড় উদ্যোক্তা এ বি এম সামছুদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছি আমরা। এমনিতে দেশের শিল্প খাত নানা সমস্যায় যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে দামি ডিজেল পুড়িয়ে উৎপাদন ঠিক রাখতে হচ্ছে। তার কারখানায় এক দিনে ১৩ লাখ টাকার ওপরে ডিজেল পুড়েছে বলে জানান। তিনি জানান, এখন ক্রেতারা পারচেজ অর্ডার দিচ্ছে না। তার কারখানায় ১৩ লাখ পিস পোশাকের পারচেজ অর্ডার বন্ধ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর মাসে কারখানার মোট সক্ষমতার মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যবহার হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। ইউরোপের দেশগুলোর সংকটের কথা জানিয়ে এ বি এম সামছুদ্দিন বলেন, সামনের শীতে ইউরোপের নাগরিকদের কাছে অত্যাবশ্যকীয় হবে জ্বালানি। ২৪ ঘণ্টা তাদের ঘর গরম রাখতে হবে। বেশি দামে জ্বালানি কিনতে গেলে তাদের বাজেটে টান পড়বে। এতে পোশাকের বাজার আরো ছোট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ বলতে পারছে না।

 

বাংলাদেশের নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্বমন্দায় কমে আসছে অর্ডারের সংখ্যা। ছয় মাস আগের ক্রয়াদেশের পণ্য প্রস্তুত অথচ বায়াররা শিপমেন্ট নিচ্ছে না। অর্থাৎ স্থগিত করে দিয়েছে। আবার যেসব অর্ডার ভবিষ্যতে রপ্তানির সিডিউল ছিল, তা-ও স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। নিট ও ওভেনে মিলে ৩০ শতাংশ অর্ডার স্থগিত হয়ে গেছে। বড় বড় কারখানার উৎপাদনও ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, গত বছরের মার্চ মাসে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। পরে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। তার পরে গ্যাসের দাম। এরপর আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, যার কারণে তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, পাশাপাশি উৎপাদন কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছর জুলাই-আগস্টে মোট পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক ১০ শতাংশ। ফলে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে পোশাকের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ওভেন খাতে রপ্তানি ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে নিটওয়ার খাতে রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।

 

এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, প্রকৃত অর্থে তৈরি পোশাক রপ্তানি পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে রপ্তানির পরিমাণ বেশ কম ছিল। এই দুর্বল ভিত্তির কারণে গত দুই মাসে শতাংশের হিসাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেশি মনে হতে পারে। তবে একটু তলিয়ে দেখলে দেখা যায়, গত জুনে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪০০ কোটি ডলারের বেশি। জুলাই মাসে তা নেমে দাঁড়ায় ৩৩৭ কোটি ডলার। আগস্টে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৭৪ কোটি ডলার। এর মানে, জুনের তুলনায় পরবর্তী দুই মাসে রপ্তানি কমেছে।

শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, রপ্তানি আদেশের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতি ছয় মাসের একটা চক্র থাকে। এখন যা রপ্তানি হচ্ছে, সেগুলোর রপ্তানি আদেশ কয়েক মাস আগের। এখন হাতে নতুন রপ্তানি আদেশ কম। অনেক ক্রেতা রপ্তানি আদেশ স্থগিত করেছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে উৎপাদিত পণ্য পরিদর্শনও শেষ হয়েছে, এখন শুধু জাহাজীকরণের অপেক্ষায় আছে—এ রকম পণ্য নিতেও গড়িমসি করছে ক্রেতারা। এসব কারণে কিছু কারখানা হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। কিছু কারখানা সক্ষমতার অর্ধেক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কোনো রকমে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তথ্যসূত্র: প্রথম ইত্তেফাক

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট