চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:০২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

একক ব্যবসায় ঝুঁকছে মানুষ

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমে প্রসারিত হচ্ছে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা। অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও বড় ভূমিকা রাখছে। এমনকি একসময় অংশীদারি ব্যবসার সংখ্যা বেশি থাকলেও এখন মানুষ একক ব্যসায় বেশি ঝুঁকছে, যা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) করা ‘পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় জরিপ ২০২১’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের অর্থনীতিতে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার অংশগ্রহণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। দেশে বর্তমানে মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৫ লাখ ৪০ হাজার ৮৯৭। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ৯১ লাখ ৯৫ হাজার ৪২১ জন শ্রমিক। এর মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা দুই লাখ তিন হাজার ১৯১ এবং পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা ৮৯ লাখ ৯২ হাজার ২৩০।

জরিপ প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানে মোট কর্মসংস্থান ব্যয় ১০ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। আর পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। বিবিএস বলছে, গত ১০ বছরে এই খাতে ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ৫২১ জন শ্রমিক যোগ হয়েছে। ২০০৯ সালে এই খাতে শ্রমিক সংখ্যা ছিল ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৯০০। গড় হিসাবে এই খাতে জনবল বেড়েছে ১.৯৯ শতাংশ থেকে ৩.৬২ শতাংশ। এক লাফে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ জন।

সংস্থাটি বলছে, এই জরিপে আমরা দেখতে পেয়েছি, গত ১০ বছরের তুলনায় এই খাতে শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। নারীরা তুলনামূলক কম এগিয়েছে এসব খাতে। তবে কী কারণে এসব খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কম, তা জরিপে বলেনি বিবিএস।

বিবিএসের জরিপ করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা গেছে, দেশে একক মালিকানার প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০ সালে একক মালিকানার প্রতিষ্ঠান ছিল ২১ লাখ ২৫ হাজার ৪৮২টি। ২০২১ সালে তা হয়েছে ২৪ লাখ আট হাজার ৬৭৮টি। তবে কমেছে অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। ২০১০ সালে অংশীদারি প্রতিষ্ঠান ছিল চার লাখ ৮৯ হাজারটি। ১০ বছরের মাথায় তা কমেছে হয়েছে ৯৪ হাজার ৪০২টি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট কর্মসংস্থান ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৩১২ কোাট টাকা। প্রতিষ্ঠানপ্রতি গড় স্থূল মূল্য সংযোজন এক হাজার ৩১৩ টাকা।

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫০টি খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোট ৪৮ লাখ ৯৪ হাজার ৯০১ জন ব্যক্তি নিয়োজিত আছে। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায় মোট ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৩৮টি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত আছে ৩২ লাখ ১৭ হাজার ১২৯ জন ব্যক্তি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মুনতাছির কামাল মনে করেন, দেশের অর্থনীতিতে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার অবদান অনেক। দেশের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটছে। তবে পাইকারি ও খুচরা খাতে বেশি দেখা যাচ্ছে একক মালিকানার প্রতিষ্ঠানগুলো। তিনি আরো বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ কম, তার অন্যতম কারণ সামাজিক প্রেক্ষাপট। ঢাকা শহরের হাতে গোনা দু-চারটি প্রতিষ্ঠানে আমরা নারীদের দেখি তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন, কিন্তু ঢাকার বাইরে সেটা নগণ্য। তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ

পূর্বকোণ/সাফা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট