চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৩ আগস্ট, ২০২২ | ১০:৩২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গবন্ধুর প্রেমে পড়েছি, এরশাদকে ভালোবেসেছি : কাদের সিদ্দিকী

সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।  মঙ্গলবার দুপুরে জাপার বনানী কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। 

তবে, তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন আগামী নির্বাচনে জোটবদ্ধ হতে পারে জাপা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। বৈঠকে জাপা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও অংশ নেন। বৈঠকের খবর জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জাপা। 

এতে বলা হয়েছে, জিএম কাদের বৈঠকে বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনে সাধারণ মানুষের আস্থা নেই। মানুষ মনে করে কারচুপি করতেই ক্ষমতাসীনরা ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন করতে চায়। অতীত অভিজ্ঞতা বলে কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, যৌবনে বঙ্গবন্ধুর প্রেমে পড়েছি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকেও ভালোবেসেছি। দেশ ও মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধু ও পল্লীবন্ধুর ভালোবাসা ছিল সব কিছুর ঊর্ধ্বে। গণভবনের কর্মচারীর যে সম্মান, তা মন্ত্রী-এমপির নেই। মানুষের সম্মান ও মর্যাদার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। কট্টর বিএনপি ও কট্টর আওয়ামী লীগ থেকে সমদূরত্ব বজায় রেখে সব রাজনৈতিক শক্তিকে একই মোহনায় হাজির করতে হবে।

জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, প্রাথমিক আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি জোটের বাইরে থাকা দলগুলো নিয়ে কীভাবে এগোনো যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ সরকার যেসব গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে তার প্রতিবাদ কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে। নির্বাচনের এখনও ১৫ থেকে ১৬ মাস বাকি। আগাম নির্বাচনেরও সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনী জোট হবে কী না— তা অনেক পরের ব্যাপার।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কৃষক শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় পার্টি সংসদের বিরোধী দল। তাদের সঙ্গে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি, এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। জাপাসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি জোটের বাইরে থাকা দলগুলো সংসদের ভেতরে কীভাবের সরকারের গণবিরোধী কাজের বিরোধিতা করতে পারে এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন— জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সালমা ইসলাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতীক।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হিসেবে অংশ নেয় জাপা। অভাবনীয় ফল করে বিএনপির প্রায় চারগুণ ২২ আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী হিসেবে আবির্ভূত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক ছিল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

 

পূর্বকোণ/রাজীব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট