চট্টগ্রাম রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২২ আগস্ট, ২০২২ | ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

সিন্ডিকেটের পকেটে ওমরার টিকিট!

ওমরা হজ যাত্রীদের বাংলাদেশ বিমানের টিকিটেও অশুভ নজর পড়েছে সিন্ডিকেটের। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার ‘অসাধু কর্মকর্তাদের’ যোগসাজশে সৌদি রুটের ওমরার টিকিট অগ্রিম বুকিংয়ের নামে ব্লক করে ফেলা হয়েছে। তবে চাহিদামাফিক অতিরিক্ত টাকা দিলে ঠিকই মিলছে বিমান টিকিট।

 

বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করেই গতকাল (রবিবার) বিকেল থেকে টিকিটপ্রতি ভাড়া একশ’ ডলার বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ওমরা সেবা প্রদানকারী এজেন্সিগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আর অস্থিরতা বিরাজ করছে ওমরা পালনকারীদের মধ্যেও।

এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্স অব বাংলাদেশ (আটাব) ও হজ্জ্ব এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস হচ্ছে ওমরা পালনের মৌসুম। এ বছর বিমানের টিকিটের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু হঠাৎ করেই টিকিটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে দাম বাড়ানোর কথা থাকলেও গতকাল বিকেলে স্বাভাবিকের চেয়ে একশ’ ডলার টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়।

 

তাছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে পুরো মাসের একটি টিকিটও বিক্রির জন্য নেই। সব বুকড দেখানো হচ্ছে। আবার এসব টিকিট ঢাকার হাতেগোণা কয়েকটি এজেন্সির কাছে ‘প্যাকেজ গ্রুপ শেয়ার’ নাম দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে একশ’ ডলার কম মূল্যে বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন আটাব ও হাব’র নেতৃবৃন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এতদিন সৌদি রুটে বিমান বাংলাদেশের ভাড়া সাতশ’ ডলার থেকে সাড়ে সাতশ’ ডলারের মধ্যেই ওঠানামা করতো। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকার বেশ কিছু এজেন্সির কাছে প্যাকেজ গ্রুপ শেয়ার নামে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের সবগুলো টিকিট মাত্র ৬৫০ ডলারে ব্লক (বুকড) করা হয়। এরমধ্যে গতকাল (রবিবার) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে দর দেন ৮৫০ ডলারে।

হজ্জ্ব এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) চট্টগ্রাম জোনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘এমন ঘটনায় বিস্মিত হয়েছি। একদিকে গ্রুপ শেয়ারের নামে কম টাকায় বিক্রি করে ফেলা, অন্যদিকে দিনে দিনে একশ’ ডলার মূল্য বৃদ্ধি করা। এটি পুরোই আশ্চর্যের বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ থাকবে, যদি নাম ছাড়া কোন টিকিট বিক্রি করা হয়ে থাকে, তাহলে সবগুলো বাতিল করে এজেন্সির মাধ্যমে হজ্জ্বের সময় যেভাবে করা হয়েছিল, এখনও একইভাবে করা হোক।

এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্স অব বাংলাদেশ (আটাব) চট্টগ্রাম জোনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাফর পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রথমে চিঠি দিয়ে আমাদের জানানো হয় পহেলা অক্টোবর থেকে ভাড়া বাড়ানো হবে। সেটি ঠিক ছিল, তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু কোন ধরনের কথাবার্তা ছাড়া হঠাৎ করেই গতকাল প্রতি টিকিটে একশ’ ডলার বাড়ানো হয়েছে। দুঃখজনক হচ্ছে- পুরো সেপ্টেম্বর মাসের কোন সিটই নেই। আমরা আগে থেকে যে কয়টি সিট বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম, সেগুলোও এখন বেশি দামে কিনতে হবে। তাহলে যাত্রীদের কিভাবে বুঝ দেব?’।

মৌসুম এলেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটের দাম অনৈতিকভাবে বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রাভেলস ব্যবসায়ী বলেন, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেটের কারণে হজ এজেন্সিগুলো সরাসরি টিকিট কিনতে পারছে না। সিন্ডিকেট আগে থেকেই টিকিট বুকিং দিয়ে রাখছে। তাদের কাছ থেকে উচ্চ দরে অন্যদের টিকিট কিনতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি টিকিটে ওমরাহযাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। যা ওমরা পালনকারীদের ওপর জুলুম।

আবু সালেক নামে একজন ওমরা প্রত্যাশী বলেন, আমরা দেশের স্বার্থে দেশের বিমানেই চলাফেরা করে থাকি। কিন্তু বিমান বাংলাদেশ যদি অন্য বিমানের মতো বাড়া বাড়িয়ে দেয়, সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে তাহলে কীভাবে হবে? এটা খুবই দুঃখজনক। আশারাখি অন্তত ওমরা হাজিদের যেন কোন ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, আর্থিক ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি নজর দিবেন তারা।

নিজেদের ইচ্ছেমাফিক যা ইচ্ছে তা করা হচ্ছে মন্তব্য করে আটাবের চেয়ারম্যান ও কনকর্ড ইন্টারন্যাশাল ট্রাভেল এজেন্সির মালিক আবু জাফর আরও বলেন, ‘আল্লাহ’র ঘরের মেহামানদের নিয়ে এমন করাটা মোটেও উচিত নয়। অনুরোধ থাকবে ক্লাসভিত্তিক না করে হজের মতো একক ভাড়া নির্ধারণ করার। এতে করে যাত্রীদের সুবিধা হবে বলেও উল্লেখ করেন আবু জাফর।

গালফ ইন্টারন্যাশানল ট্রাভেল এজেন্সির স্বত্ত্বাধিকারী এবং হাবের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘এখন ওমরা হজের মৌসুম। কিন্তু পুরো সেপ্টেম্বরে টিকিট থাকবে না, এটা খুবই দুঃখজনক। ওমরাযাত্রীদের টিকিট সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সৌদিআরব রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু এবং ওমরা এজেন্সিগুলোর কাছে সরাসরি টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিতকরণের দাবি এ নেতার।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি মার্কেটিং বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট