চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৪ আগস্ট, ২০২২ | ১১:২১ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

কেন এতো বাড়ল মুরগি ও ডিমের দাম!

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অবশ্যম্ভাবী প্রভাব হিসেবে বাংলাদেশে বেড়ে গিয়েছে সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। কিন্তু পোল্ট্রি সামগ্রীর দাম বাড়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিস্তর আলোচনা চলছে।

বিশেষ করে মুরগির মাংস ও ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারের ব্যয় সামলাতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে।

ঢাকার কালাচাঁদপুর এলাকার বাসিন্দা মিতালি ঘাগরার পাঁচ সদস্যের পরিবার চলে একজনের উপার্জনে।

আগে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন মুরগি ও দু’দিন মাছ রান্না হলেও এখন এই পণ্যগুলো কেনা কমিয়ে সবজির দিকে ঝুঁকছেন তিনি। ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রেও লাগাম টানতে হয়েছে তাকে।

ফলে আগের মতো ডিম, মাছ, মাংস পাতে ওঠে না এই পরিবারটির।

“আগে সপ্তাহে আমার দুই ডজন ডিম লাগতো। এখন তো দাম বেড়ে গেছে। এখন হালি ধরে ডিম কিনি। মুরগি আগে সপ্তাহে দুই তিনদিন খেতাম এখন একদিন খাই। দাম বেড়ে গেলে কী করবো! আয় রোজগার তো বাড়ে নাই,” বলেন, মিতালি ঘাগরা।

দাম কেন বেড়েছে

এই পরিস্থিতির পেছনে উৎপাদকরা মধ্যসত্ত্বভোগী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দুষছেন। পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জামান সেন্টুর অভিযোগ, পরিবহন সিন্ডিকেট মালপত্র আনা নেয়া বাবদ প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকছে যা দেখার কেউ নেই।

তিনি বলেন, “আগে যেখানে ১৭/১৮ হাজার টাকায় এক গাড়ি নেয়া যেত, সেই গাড়ির ভাড়া চায় ২৬/২৭ হাজার টাকা। তাদের মন মতো সব, এখানে আমাদের কিছু বলার নাই। প্রশাসনও কোন ব্যবস্থা নেয় না।”

পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে মুরগির ফিডের দামও বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে কাঁচামাল না আসায় প্রভাব পড়েছে ডিম ও মুরগির দামে। আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ায় মুরগির খাবার প্রসেস করার খরচও বেড়েছে।

তিনি জানান, “৬টা মুরগির জন্য দিনে এক কেজি ফিড লাগে। এক কেজি ফিডের দাম আগে ছিল ৫০ টাকা। তাই ওই ৬টা মুরগি থেকে ৬টা ডিম আমি ৬০ টাকায় বিক্রি করলে দুই দিকেই লাভ থাকতো। এখন সেইম ফিডের দাম হয়েছে কেজিতে ৭৫ টাকা। আবার বিদ্যুতের ইউনিট দামও ১৭ টাকা হয় মাঝে মাঝে। তাহলে এর প্রভাব তো ডিমে, মাংসে পড়বেই।”

উৎপাদকরা এই সব বাড়তি খরচের বোঝা বহন করলেও মধ্যসত্ত্বভোগীদের পাল্লায় তারা সেই দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ মিস্টার জামানের।

তার মতে, ভোক্তা পর্যায়ে যে হারে দাম বেড়েছে, সেটার সাথে তাদের দামের বিস্তর ফারাক রয়েছে।

এভাবে প্রতিনিয়ত উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকায় প্রান্তিক খামারিরা ক্রমেই ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দাম বাড়ায় বিক্রি কমেছে

বাজারদর নির্ধারণকারী সরকারি সংস্থা টিসিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২রা অগাস্ট প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৪৫ টাকা। এখন সেই মুরগির দাম ধরা হয়েছে ১৮৫ টাকা।

অর্থাৎ গত ১২ দিনে মুরগির দাম বেড়েছে ৪০ টাকার মতো। একই হারে বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এর চাইতেও ১০ থেকে ২৫ টাকা বেশি দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা।

সেইসাথে ডিমের দামও সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এখন এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়।

যেখানে টিসিবির হিসাবে গত সপ্তাহেও ডজন প্রতি পড়েছিল ১২০ টাকার মতো। অর্থাৎ এক লাফে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সে হিসেবে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে ১৩ টাকার বেশি। মাছের বাজারেও আগুন।

এ কারণে বাজারে আগের চাইতে বেচা-বিক্রি কমে গিয়েছে বলে জানান দোকানিরা।

কালাচাঁদপুর কাঁচা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী রবিন ইসলাম গত সপ্তাহে দিনে ৫০টি মুরগি বিক্রি করতেন। কিন্তু দাম বাড়ার পর ৩০টি মুরগিও বিক্রি করতে পারেন না।

মাছ ব্যবসায়ী শামীম হোসেনও জানান যে দাম বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহের চাইতে এবারে তার বিক্রি প্রায় অর্ধেক কমে গিয়েছে। বেলা গড়িয়ে গেলেও বেশিরভাগ মাছ বিক্রি করতে পারেননি তিনি। তথ্যসূত্র :বিবিসি বাংলা

পূর্বকোণ/রাজীব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট