চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৪ আগস্ট, ২০২২ | ২:৩৬ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

রাত আড়াইটায় বের হয়ে সকালে বাসায় ফেরেন মামুন, দাবি কেয়ারটেকারের

কলেজশিক্ষক খাইরুন নাহারের মৃত্যুর রাতে স্বামী মামুন হোসেন আড়াইটায় বাসা থেকে বের হয়ে সকাল ৬টায় ফেরেন বলে দাবি করেছেন বাসার কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিন। তবে মামুনের মতে- আত্মহত্যা করেছেন তার স্ত্রী। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে রবিবার (১৪ আগস্ট) সকালে নাটোরের বালারীপাড়া এলাকার হাজী নান্নু মোল্লা ম্যানশনের চারতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে খাইরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিন বলেন, ‘শনিবার রাত ১১টার দিকে বাসায় প্রবেশ করেন মামুন। আবার রাত আড়াইটার দিকে বের হন তিনি। এতরাতে কেন বের হচ্ছেন জানতে চাইলে মামুন বলেন, ওষুধ কিনতে যাচ্ছেন। পরে সকাল ৬টায় মামুন আবার ফিরে আসেন। বাসায় ফেরার পর মামুন আমাকে ডাকেন। আমি চার তলায় গিয়ে দেখি, ঘরের মেঝেতে খাইরুন নাহারের লাশ।’

নিহত খাইরুনের চাচাতো ভাই সাবের হোসেন বলেন, ‘সকালে ফোনকলে জানতে পারি, আমার বোন আত্মহত্যা করেছে। খবর শুনেই গুরুদাসপুর থেকে ছুটে আসি। এসে দেখি, বোনের মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। মরদেহের গলায় বেশ কিছু দাগ রয়েছে। এতে মনে হচ্ছে ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’

 

জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, ‘ সামাজিক মাধ্যমে এ দম্পতির বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়। এই সমালোচনার কারণেই খাইরুন নাহার আত্নহত্যা করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, নিহত খাইরুন খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় এলাকার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে। অন্যদিকে তার স্বামী মামুন ওই উপজেলার ধারাবারিষার পাটপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছয় মাসের প্রেমের পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজী অফিসে গিয়ে মামুনকে বিয়ে করেন খাইরুন। বিয়ের ৬ মাস পর গত জুলাই মাসে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর আগে পারিবারিক বিরোধের কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ হয় এই কলেজ শিক্ষকের। সে সংসারে তার এক ছেলে আছে।

 

পূর্বকোণ/এএস/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট