চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৯ আগস্ট, ২০২২ | ১:২৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুকুটহীন সম্রাট বঙ্গবন্ধু

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক আইয়ুব খেদানোয় বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেছিলেন সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির নয়নের মণি। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের মানচিত্রে এক লৌহমানবে পরিণত হন। একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়ে বাংলাদেশ। আর বঙ্গবন্ধু পরিণত হন স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক রূপে। বিশ্বের গণমাধ্যম তাকে আখ্যায়িত করে ‘পোয়েট অব পলিটিক্স’ নামে। তিনি যেমন ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা- তেমনি ছিলেন বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের চেতনার মূর্তপ্রতীক। ছিলেন চিরশোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুকুটহীন সম্রাট। আর সে জন্যেই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু বলতে পারতেন, ‘আমাদের পরিষ্কার কথা- আফ্রিকা হোক, ল্যাটিন আমেরিকা হোক, আরব দেশ হোক- যেখানেই মানুষ শোষিত, যেখানে মানুষ অত্যাচারিত, যেখানে মানুষ দুঃখী, যেখানে মানুষ সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা নির্যাতিত- আমি ও আমার বাংলার মানুষ সবসময় সেই দুঃখী মানুষের সঙ্গে আছি ও থাকব।’

 

নিরন্ন-হতদরিদ্র-মেহনতী মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল প্রগাঢ় ভালোবাসা। তা প্রতিফলিত হয়েছে, অভিব্যক্ত হয়েছে তার প্রতিটি কর্মে ও চিন্তায়। ১৯৭৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত- শোষক আর শোষিত; আমি শোষিতের পক্ষে।’ শোষিত প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধুর প্রধান স্বপ্ন ছিল বাংলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন।

 

তাই ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত নবগঠিত পাকিস্তানকে মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেননি শেখ মুজিবুর রহমান। ’৫৪-এর নির্বাচনে তিনি মুসলিম লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ’৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলনে তার অবদান চিরভাস্বর। এরপর ’৭০-এর নির্বাচনের পথ পেরিয়ে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, যার প্রতিটি আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধুর নিরলস ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়েছিল। এমন নেতৃত্ব পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট