চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৯ আগস্ট, ২০২২ | ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

জনজীবনে নাভিশ্বাস

মহামারী করোনার ধাক্কার পর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় এমনিতেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। এর মধ্যেই জ্বালানি তেলের বড় অংকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রভাব পড়েছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষেরা।

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব কিছুতেই দামের প্রভাব পড়ছে। ভাড়া বেড়েছে গণপরিবহনেও। এতে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। একই সাথে পণ্যপরিবহন খরচ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বৃদ্ধি করা হলেও এ ভাড়া ৫০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইম মুভারস পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশন।

প্রসঙ্গত, সরকার গত ৫ আগস্ট রাত ১২টার পর থেকে জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম কার্যকর করে। পণ্য পরিবহনে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ডিজেল। লিটারে ডিজেলের দাম ৩৪ টাকা বাড়ায় কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে এই খাতের সংশ্লিষ্ট সবাই।

বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইম মুভারস পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহমদ গতরাতে দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘২০২১ সালে পরিবহন খাতে ভাড়া বাড়ানোর সময় পণ্য পরিবহন খাতে ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ ওই সময়ে অন্যান্য পরিবহন খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। পণ্য পরিবহনের গাড়িগুলো বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিতে পণ্য পরিবহন করে। তবে এবার হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় এখন চুক্তির ওপর আমরা বাড়তি ৫০ শতাংশ পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত শনিবার আমাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

চৌধুরী জাফর আহমদ বলেন, ‘পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় যেতে একটি ট্রাকের স্বাভাবিক ভাড়া নেওয়া হয় ২০ হাজার টাকা। ফিরতি পথে নেওয়া হয় ১৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম আসা-যাওয়ায় ভাড়া নেওয়া হয় ৩৫ হাজার টাকা। এতে একটি ট্রাকে ১৫০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে ট্রাকপ্রতি ভাড়া ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সাথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের ফিরতি পথে ভাড়া ৭ হাজার টাকা বাড়িয়ে ২২ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে পণ্য পরিবহনসহ সব খাতে মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে কনজুমারস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি নাজের হোসাইন দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘পণ্য পরিবহন, গণপরিবহন, খাদ্য উৎপাদন, গৃহস্থালি এবং রপ্তানিমুখী কাজে জ্বালানি তেলের ব্যবহার হয়। কিন্তু হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সব কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতে মূল্যবৃদ্ধিতে সীমিত আয়ের মানুষ বেশি হিমশিম খাচ্ছে। কিছুদিন আগে গ্যাসের দাম এক দফা বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পানির দামও। নতুন করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি নিম্ন আয়ের মানুষ।’

নাজের হোসাইন বলেন, ‘করোনায় কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে সকল শ্রেণির মানুষ। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ কষ্টে পড়ে বেশি। এর মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। দিন দিন এ ধাক্কা আরো কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে।’

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট