চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৫ আগস্ট, ২০২২ | ৮:১৭ অপরাহ্ণ

বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ইংগিত দিলেন প্রতিমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ‘যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার সময় এসেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেছেন, এখন যেহেতু দাম বাড়তির দিকে, তাই পার্শ্ববর্তী দেশ ও বিশ্বের অবস্থা বিবেচনায় একটা অ্যাডজাস্টমেন্ট হওয়া উচিত। যদি বিশ্ববাজারে দাম কমে আসে, আমরাও চেষ্টা করবো সেই অনুযায়ী দাম কমাতে।

আজ শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বারিধারায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির এই ইংগিত দেন।

কিছুদিন আগে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, সে দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা যে দামটা বাড়িয়েছি সেটা গত বছরের ডিসেম্বরের পরিস্থিতি বিবেচনায়। সে কারণে আমি মনে করি গ্যাসে আমাদের আরেকটা অ্যাডজাস্টমেন্ট হওয়া উচিত।

“বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৭০ ডলারের ওপরে উঠে গেলেই আমরা লোকসানের মধ্যে পড়ে যাই। ইতোমধ্যে বিপিসি নিজ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার মতো লোকসান দিয়েছে। তাই আমি মনে করি বিশ্ব বাজারের সাথে একটা অ্যাডজাস্টমেন্ট থাকা উচিত। না হলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।”

উন্নত বিশ্বের সব দেশকেই এভাবে সমন্বয় করতে হচ্ছে মন্তব্য করে নসরুল হামিদ বলেন, “আমরাই কেবল বসে আছি।… তেলের মার্কেটে এখন পুরোপুরি লস দেয়া হচ্ছে। পাশের দেশে তেলের দাম বাড়ছে, সাথে সাথে অ্যাডজাস্ট করছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন হচ্ছে।”

ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে জনজীবনে যে প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও সরকার ‘চিন্তাভাবনা’ করছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী; দাম বাড়ালেও কৃষি খাতে দাম অপরিবর্তিত রাখার ইঙ্গিত দেন।

“ডিজেলের ক্ষেত্রে কৃষিতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি তেল ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। খুব বেশি পরিবর্তন হবে না বলে আমরা হিসাব করে দেখেছি। এজন্য আমরা বিআরটিএ, বিআইডব্লিউটিএ, পরিবহন মালিক সমিতি, ট্রাক মালিক সমিতি সবার সাথে বসে আলোচনা করে ঠিক করার চিন্তা করছি।

“আমরা দেখতে পাচ্ছি ডিজেলের দাম বাড়লে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ে ১ টাকা থেকে ২ টাকা। বিষয়টা যদি ওই রকমভাবে সমাধান করা যায়, অবশ্যই অ্যাডজাস্টমেন্ট করা উচিত।”

দেশীয় চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি বিশ্ববাজার থেকে আমদানি বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান নসরুল হামিদ।

আবার দেশীয় উৎপাদনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ‘একেক সময় একেক ধরনের তথ্য পেয়ে’ কিছুটা বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার কথাও বলেন নসরুল হামিদ।

“গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে যাব। যারা আমাদের কাছে প্রস্তাব করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে। যারা এখনও প্রস্তাব করেনি, তাদের সঙ্গেও আলোচনা হবে। বিশেষ করে কাতার এখনও প্রস্তাব পাঠায়নি। তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আমাদের আলোচনা এবং চুক্তিতে যেতে হবে।

“এর বাইরে গ্যাস কূপ খননে বাপেক্সসহ বিদেশি কোম্পানিগুলোকে কাজে লাগাবো। এজন্য আমরা টেন্ডার করব।”

 

পূর্বকোণ/মামুন/পারভেজ

শেয়ার করুন