চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২২

সর্বশেষ:

৫ আগস্ট, ২০২২ | ৩:১৬ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

কখনও পদ নেওয়ার চিন্তা আমাদের ছিল না : প্রধানমন্ত্রী

শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্কুল পাস করে যখন ঢাকা কলেজে ভর্তি হলো, তখন থেকে সে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। আমরা সবাই সংগঠন করতাম। কখনও কোনো পদ নেওয়ার চিন্তা আমাদের ছিল না।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ কামালের জীবন থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের যুব সমাজ নিজেদের মেধা-মনন বিকশিত করে বাংলাদেশের মর্যাদা উন্নত করবে। বহুমুখি প্রতিভা নিয়ে সে জন্মেছিল। হয়তো বেঁচে থাকলে আরও বেশি উন্নতি করতে পারত। সিম্পল লিভিং, হাই থিংকিং, এটাই ছিল আমাদের মটো (আদর্শ)। কামাল সব সময় অত্যন্ত সাদাসিধাভাবে চলাফেরা করতো। তার পোশাক-পরিচ্ছদ, জীবন-যাপন খুবই সীমিত ছিল। এমন কী দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ছেলে বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে কোনো অহমিকা ছিল না তার।

তিনি আরও বলেন, আমার দাদা ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন। আমার ছোট দাদা শেখ হাবিবুর রহমান। তিনিও ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন। আমার বাবাও ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন। অফিস শেষে আমার দাদাও যেমন খেলতেন, আমার আব্বাও খেলতেন। তাদের মধ্যে কম্পিটিশন হতো। খেলাধুলায় আমাদের দেশের যুব সমাজ যেন আরও সম্পৃক্ত হয়, কিশোর-কিশোরীরা যেন সম্পৃক্ত হয় তার জন্য তিনি উদ্যোগী ছিলেন।

 

কামাল বহুমুখি প্রতিভার অধিকারি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে একাধারে হকি খেলতো, ফুটবল খেলতো। আবার সেতার বাজাতো। ভালো ছাত্র ছিল। ভালো গান গাইতে পারত। নাটকে অংশগ্রহণ করতো। অনেক নাটক তার করা আছে। উপস্থিত বুদ্ধি তার ছিল, সব সময় পুরস্কার পেত। সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড পেয়েছিল, যেহেতু সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্র, আমার মায়ের খুব ইচ্ছা ছিল সে যেন মাস্টার ডিগ্রিটা সম্পন্ন করে, সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। পরীক্ষাও দিয়েছিলো, পরীক্ষার রেজাল্টও পেয়েছি, রেজাল্ট পরে পেয়েছি। এটা হচ্ছে দুর্ভাগ্য রেজাল্ট সে দেখে যেতে পারেনি।

১৫ আগস্টের নির্মম হত্যা প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কামাল এবং নূর একই সাথে কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিল। নিয়তির কী পরিহাস ১৫ আগস্ট নূরই প্রথম আসে। ফারুকের নেতৃত্বে যে গ্রুপটা আমাদের ৩২ নম্বরের বাড়ি আক্রমণ করে সেখানে কর্নেল নূর-হুদা এরা ছিল। কামাল মনে হয় কিছু ধোকায় পড়ে গিয়েছিল তাকে দেখে। ভেবেছিল তারা বোধহয় উদ্ধার করতে এসেছে। কিন্তু তারা যে ঘাতক হয়ে এসেছে সেটা বোধহয় জানতো না। কারণ প্রথমে তারা কামালকে হত্যা করে। এরপর একে একে পরিবারের সকল সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট