চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২২ জুলাই, ২০২২ | ১২:০১ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

দাম কমেনি উল্টো বেড়েছে

চালের দাম কমাতে শুল্কহার কমিয়ে আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু চাল আমদানির পরও তিন কারণে দামে প্রভাব পড়েনি বাজারে। উল্টো দুদিনে চালের দাম বস্তাপ্রতি দুই থেকে তিনশ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা জানান, ডলার ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়তি। একই সঙ্গে চালের রপ্তানিমূল্যও বাড়িয়েছে ভারত। এর ফলে শুল্কহার কমানোর পরও চালের দাম কমছে না। এজন্য শুল্কহার আরও কমিয়ে ১০ শতাংশে আনার দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম পূর্বকোণকে বলেন, ‘শুল্কহার কমানো হলেও ডলারের দাম বাড়তি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গাড়ি ভাড়াও বাড়তি। সবমিলে শুল্কহার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনলে বাজারে চালের দামে প্রভাব পড়বে।’ ২০২০ সাল দেশে চালের দাম বাড়তে থাকে। করোনা সংক্রমণের পর অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে চালের বাজার। সেই থেকে চালের বাজারে স্থিতিশীলতা আনা যাচ্ছে না। তবে সরকার দাম কমাতে সরকারিভাবে চাল আমদানি করেছে। এখন বেসরকারিভাবেও চাল আমদানি শুরু হয়েছে। কিন্তু তারপরও সুফল মিলছে না। চলতি বোরোর ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়তি ছিল। অথচ এসময়ে চালের দাম কম থাকার কথা।

ভরামৌসুমে চালের দাম বাড়তি এবং সিলেট অঞ্চলে বন্যা-জলোচ্ছ্বাসে আউশ ধানের ক্ষেত ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়। এজন্য সরকার শুল্কহার কমিয়ে আমদানি উদ্যোগ নেয়। গত ২৫ জুন চাল আমদানির শুল্ককর সাড়ে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনে। নগরীর চালের বড় মোকাম চাক্তাই ও পাহাড়তলী চাল বাজারে নূরজাহান সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে বস্তাপ্রতি ২৪শ টাকা দরে। গত সপ্তাহে তা সাড়ে ২২শ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। ভারতীয় আমদানি করা সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে একই দরে। জিরাশাইল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩৫৫০-৩৬০০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে তা ৩১৫০-৩২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মোটা আতপ ১৭-১৮শ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইজাম একশ টাকা বেড়ে ২৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাইল ৩৫৫০-৩৬শ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৩৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কর্পোরেট গ্রুপের অতিরিক্ত মজুদ ও এলসি করা চাল সীমান্তে আটকে থাকার কারণে বাজারে চালের দাম বেড়েছে।’ মিলাররা কারসাজি করে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রায় ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে আমদানিকারকদের। অনুমতি পাওয়ার পর দুই সপ্তাহে বাজারে সামান্য পরিমাণ চাল এসেছে। এরফলে আমদানির প্রভাব পড়েনি বাজারে। পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘ভারত থেকে চাল আমদানির পর দাম কমানোর আশা-ভরসা করেছিলাম। এখন দুদিনে উল্টো প্রতিবস্তায় দু-তিনশ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ডলার ও রপ্তানিমূল্য বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন আমদানিকারক ও মিলাররা।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে প্রচুর পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে। খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু করা হলে বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।’

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট