চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২৪ জুন, ২০২২ | ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোজ্যতেলের দাম কমানোর দাবি ক্যাবের

গত মার্চে বিশ্ববাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম হয় ১৯৫৬ ডলার। এপ্রিলে কমে প্রতি টন হয় ১৯৪৭ ডলার। আর বর্তমানে টনপ্রতি ১৪৬৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করার দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

শুক্রবার (২৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে ক্যাব সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম যখন বাড়তি, তখন পণ্যটি আমদানিতে সরকারের পক্ষ থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার ছাড়াও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর ওই সুবিধা নিয়ে আমদানি করা তেল দেশের বাজারে আসলে দাম কমার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভোক্তারা তার কোনও সুফল পায়নি।

পরিতাপের বিষয় হলো, তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে, কিন্তু দেশে বাড়ানো হচ্ছে! যা শুধু ব্যবসায় সুশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, ব্যবসায়িক নীতি-নৈতিকতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। এতে ভোক্তারা চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

বিবৃতিতে ক্যাব সহ-সভাপতি আরও বলেন, দাম বৃদ্ধির পর্যালোচনা করে দেখা যায়— গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম পাঁচবার উঠানামা করেছে। এর মধ্যে তিন দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারসাজিতে অক্টোবরের শেষ দিক থেকে বেসামাল হয় ভোজ্যতেলের বাজার। ফলে অক্টোবরে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৩৬ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন লিটার ১৬০ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সে সময় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে সময়ও বেঁধে দেওয়া দামে ভোজ্যতেল বাজারে পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে ক্যাব সহ-সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন দাম বাড়াতে যত আগ্রহী, বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশে কমাতে তেমন আগ্রহী না। এতে ভোজ্যতেলের বাজারে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে আমদানিকারকরা দেশীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কমলে দীর্ঘদিনেও দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম সমন্বয় হয় না, যা খুবই দুঃখজনক। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় বাজারে দাম বাড়ে, কিন্তু দাম কমলে ব্যবসায়ীদের উল্টো সুর বেশী দামে কেনা বা বুকিং রেট বেশিসহ নানা অজুহাত।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট