চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২২ মে, ২০২২ | ৮:০৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাত্রাতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনে হচ্ছে ৪৫% গ্যাস্ট্রিক আলসার

বাংলাদেশে ৪৫ শতাংশ মানুষের গ্যাস্ট্রিক আলসার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত প্রোটন-পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই) বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনের কারণে। অতিরিক্ত মাত্রায় গ্যাসের ওষুধ খাওয়ার ফলে দেখা দিচ্ছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন-১২, আয়রনের ঘাটতিও।

রবিবার (২২ মে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এ ব্লকের মিলনায়তনে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, তাই বলে এসব রোগের ভয়ে হঠাৎ পিপিআই বন্ধ করা যাবে না। পিপিআই ক্রমে দুই সপ্তাহ, এক সপ্তাহ করে কমিয়ে দিতে হয়ে। দিনে একটি, দুই দিন পর আরেকটি করে ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য বলেন, আমরা যদি নিয়ম মেনে চলাফেরা করি তাতেও অ্যাসিডিটি হবে না। অ্যাসিডিটি না হলে ওষুধ খাওয়া লাগবে না। ওষুধ খাওয়া হলো আরেকটি রোগ তৈরি করা। একটি রোগের জন্য ওষুধ খেলে আরেকটি রোগের সৃষ্টি হতে পারে। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ এমন ধরনের ওষুধ যার প্রধান কাজ হলো পাকস্থলীর প্যারা ইটাল কোষ থেকে অ্যাসিড নিঃসরণ কমানো।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেখছি, বাংলাদেশের মানুষ রাস্তাঘাটে পণ্যের মতো ওষুধ কিনে থাকেন। অনেকে আবার ফার্মেসিতে গিয়ে দামি ওষুধ কিনে থাকেন। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ফলে আমরা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে যে অবস্থায় রয়েছি, তাতে দেশে ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে করোনাভাইরাসের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যাবে। আমরা অনেকে যখন-তখন স্টেরয়েড কিনে খাই। স্টেরয়েড খেয়ে মোটাতাজা হই। কিন্তু এর ভবিষ্যৎ খারাপ।’

‘ওভার ইউজ অব পিপিআই: আ রিভিউ অব ইমার্জিং কনসার্ন’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএমএমইউয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক রাজীবুল আলম ও ফার্মাকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরবিন্দু কান্তি সিনহা।

নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সবুজের সঞ্চালনায় প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (একাডেমিক) এ কে এম মোশাররাফ হোসেন, সহ–উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মো. জাহিদ হোসেন, ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সায়েদুর রহমান।

 

পূর্বকোণ/মামুন/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট