চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২১ মে, ২০২২ | ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

দুই মাসে বেড়েছে ৪০ শতাংশ

ইফতেখারুল ইসলাম
মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’এর মত গো-খাদ্যের দাম আরো এক দফা বাড়ল। ২০১৯ সাল থেকে ক্রমশ বাড়তে থাকে গো-খাদ্যের দাম, ২০২২ সালের মার্চে এসে মূল আইটেমগুলোর দাম গড়ে ৯৪ শতাংশ বেড়ে যায়। গত দুই মাসের ব্যবধানে আরো এক দফা বেড়ে গেছে গো-খাদ্যের দাম। এই সময়ের ব্যবধানে ৮টি আইটেমের দাম গড়ে আরো ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
একাধিক খামারির সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিচ্ছে। দফায় দফায় গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ খামারিরা। গরু বিক্রি করে গো-খাদ্যের দাম পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক খামারি নিঃস্ব। এই খাতে সরাসরি ভর্তুকি দাবি করেন তারা। তারা জানান, কিছু মিল মালিক এবং মজুদদারদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ডেইরি শিল্পকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে।
একাধিক দুগ্ধ খামারির সাথে আলাপকালে তারা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে খুব বেশি দিন হয়নি। গো-খাদ্যের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েয়ে ২০১৯ সালের পর থেকে। ওই সময় থেকে ব্যাপকহারে বাড়তে থাকে গো-খাদ্যের দাম। কোন কারণ ছাড়াই কিছু দিন অন্তর দাম বাড়ে।
একাধিক খামারির সাথে আলাপকালে তারা জানান, একটি খামারে একদিনের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে ওই দিনের গরুর খাবার এবং শ্রমিকের বেতন দেয়া যায় না। বাড়তি খরচ মেটানোর জন্য গরু বিক্রির কোন বিকল্প তাদের হাতে নেই। এই শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের উচিত ভর্তুকি মূল্যে গো-খাদ্য বিক্রি করা, একইসাথে যারা সিন্ডিকেট করে মূল্য বাড়িয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা। নতুবা একসময় অধিকাংশ খামার বন্ধ হয়ে যাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা সয়াবিনের খৈলের দাম ছিল ১৭০০ টাকা। অর্থাৎ কেজি ৩৪ টাকা। ২০২২ সালের ১৫ মার্চ তা বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৬৪ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬৫ টাকায়। ২০১৯ সালে গমের ভূষির বিক্রি হয় কেজি ২১ টাকায়। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৩.৭২ টাকায়। রাইস পলিশ বা আটা কুঁড়া ২০১৯ সালে বিক্রি হয়েছিল কেজি ১৪ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩১ টাকায়। এই সময়ের ব্যবধানে মশুর ডালের ভূষির দাম প্রতি কেজির দাম ১০.৭৫ টাকা হতে বেড়ে ২৬.২৫ টাকা হয়েছে। সরিষার খৈলের দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে এবং ভূট্টার কেজি ১৬.৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬ টাকা হয়েছে। মুগভূষির দাম ১৭ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮.৭৫ টাকা হয়েছে। মটরভূষির দাম ১৮.৯০ থেকে ৬১ টাকা হয়েছে।
জানতে চাইলে চিটাগং ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাঈম উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়তে বাড়তে পুরো ডেইরি শিল্প এখন মুমূর্ষু অবস্থায় চলে গেছে। অনেক খামারি গরু বিক্রি করে নিঃস্ব হচ্ছে। অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।    

পূর্বকোণ/এস 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট