চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ মে, ২০২২

সর্বশেষ:

১৪ মে, ২০২২ | ৬:২৬ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

অর্থ লোপাট মামলার পলাতক আসামি পি কে হালদার ভারতে গ্রেপ্তার

হাজার কোটি টাকা লোপাট মামলার পলাতক আসামি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি নিজেকে ‘শিব শঙ্কর হালদার’ নামে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন।

শনিবার (১৪ মে) সকালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পি কে হালদারসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার দিনভর কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার অন্তত ৯টি স্থানে অভিযান চালায় ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা ইডি। পরদিন পি কে হালদারের সম্পত্তির খোঁজে দ্বিতীয় দফায় আবারও অভিযান শুরু করে দেশটির আইনশৃঙ্খ বাহিনী। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি মুম্বাই এবং দিল্লিতেও অভিযান চালানো হয়।

ইডি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যক্তিগত আইনজীবী সুকুমার মৃধার সহায়তায় পি কে হালদার পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের একাধিক রাজ্যে বিপুল সম্পদ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থপাচারের মাধ্যমে ভারতে একাধিক অভিজাত বাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে খোঁজ পেয়েছে ইডি। তারা ইতোমধ্যে পি কে হালদারের কাছ থেকে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছেন। এসব নথিতে প্রাথমিকভাবে ভারতে তার ২০ থেকে ২৫টির মতো বাড়ির মালিকানার তথ্য মিলেছে।

এক বিবৃতিতে ইডি বলেছে, বাংলাদেশি নাগরিক প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রীতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদার এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রশান্ত কুমার হালদার নিজেকে শিব শঙ্কর হালদার নামে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। বাংলাদেশি এই অর্থপাচারকারী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে ভারতীয় রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, প্যান এবং আধার কার্ডও সংগ্রহ করেছিলেন। প্রশান্ত কুমার হালদারের অন্য সহযোগীরাও ভারতীয় এসব কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ করেন।

জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পারগনার বিভিন্ন এলাকায় পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন। বর্তমানে সেগুলো সিলগালা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রীতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদার এবং তাদের সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান চালায় ইডি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মানি লন্ডারিং আইনে মামলা আছে। সেই সব মামলায় ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে দুদকের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশে ফেরা মাত্রই তার বিচার শুরু হবে।

পূর্বকোণ/এস/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট