চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ মে, ২০২২

সর্বশেষ:

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ | ৯:৩০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সেজে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিতেন চন্দ্রশেখর!

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস, সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন চন্দ্রশেখর মিস্ত্রী। এই অভিযোগে গতকাল বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ তেজগাঁওয়ের নবীনবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপরই প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসে।

গ্রেপ্তারের সময় চন্দ্রশেখর মিস্ত্রীর কাছ থেকে চাকরিপ্রার্থীর সিভি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলির আবেদন, সরকারি স্কুল ও কলেজে ভর্তির আবেদনপত্র, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম, মোবাইল নম্বর, একাধিক সিল, ছয়টি মোবাইল ফোন, চারটি ডেবিড কার্ড ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেক জব্দ করা হয়।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ চন্দ্রশেখর মিস্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক সাদিকুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রশেখর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আশ্বাস দিয়ে মানুষজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। এ ছাড়া স্কুল-কলেজে ভর্তি ও বদলি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো, গণভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ পাস ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে শতাধিক লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। গত ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিফ কম্পট্রোলার পরিচয়ে চন্দ্রশেখর মিস্ত্রী ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করে নিজের ভাগনেকে ভর্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

এ ঘটনায় কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা আমীমুল ইহসান মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পূর্বকোণ/মামুন

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট